দর্শকে ঠাসা কাউন্টি গ্রাউন্ডে ক্লাব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিতেই মাঠে নেমেছিল উজ্জীবিত সুইনডন। কিন্তু স্বাগতিক সমর্থকদের হতাশ করে বড় পরাজয় নিয়েই তাদের বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।
বার্নার্দো সিলভা ও গাব্রিয়েল জেসুসের দুই গোলে ২৮ মিনিটেই মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটিজেনরা। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে স্বল্প সময়ের জন্য প্রিমিয়ার লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা সুইনডন তারপর থেকে শুধু কঠিন সময়ই পার করছে।
.png)
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বাকিটা সময় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেস্টা করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সিটির দুর্দান্ত ছন্দের কাছে আর পেরে উঠেনি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে টিনএজার কোল পালমারের ক্রসে সিটিকে এগিয়ে দেন সিলভা।
২৮ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন জেসুস। ৫৯ মিনিটে নিখুঁত ফ্রি-কিকে ইকে গুনডোগান ব্যবধান ৩-০’তে নিয়ে গেলে সুইনডোনের সময় পার করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
৬২ মিনিটে জেসুসের পেনাল্টি শট রুখে দেন সুইনডন গোলরক্ষক লুইস ওয়ার্ড। ৭৮ মিনিটে স্ট্রাইকার হ্যারি ম্যাককার্ডির গোলে এক গোল পরিশোধ করে সুইনডন।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কোচ পেপ গার্দিওলাকে ছাড়াই কাল মাঠে নেমেছিল সিটিজেনরা। একইসাথে নতুন বছরের প্রথম দিনেই আর্সেনালকে হারানোর দলটি থেকে সাত পরিবর্তন করে কাল সিটির মূল একাদশ সাজানো হয়েছিল।
করোনার কারণে বেশ কিছু খেলোয়াড় দলের বাইরে রয়েছেন। কিন্তু এতে করে নতুনদের সামনে সুযোগ এসেছিল নিজেদের প্রমাণের। তেমনই একজন হলেন মিডফিল্ডার পালমার।
১৯ বছর বয়সী এই ইংলিশ মিডফিল্ডার সিটির একাডেমী থেকে মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। ডানদিক থেকে তারই এসিস্টে সিলভা প্রথম গোলটি করেন।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলার সহকারী রোডোল্ফো বোরেল বলেছেন, ‘আমরা প্রতিদিনই তাকে অনুশীলনে রেখেছি। পালমারের মধ্যে দারুন প্রতিভা রয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলে আরো কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আশা করছি দ্রুতই তারাও সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণ করবে। দুই বছর আগে যেমন ফিল ফোডেন নিজেকে প্রমান করেছিল।’
প্রায় এক দশক পর এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল সুইনডন। যে কারনে কালকের রাতটা ছিল স্বাগতিকদের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত।
গত বছরের শুরুতে ক্লাবটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দেউলিয়া হবার মত অবস্থা হয়েছিল। যে কারনে লিগ ওয়ান থেকে রেলিগেটেড হয়ে যায়। গত মৌসুমের শুরুতে স্টাফদের বেতন পর্যন্ত দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে কোচ বেন গার্নারের অধীনে এ বছর সুইনডন দারুন ছন্দে রয়েছে।