ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

টাইগারদের স্পিন ঘুর্ণিতে ধুঁকছে আফগানিস্তান

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টি-২০ সিরিজ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:১৪, ৩ মার্চ ২০২২
টাইগারদের স্পিন ঘুর্ণিতে ধুঁকছে আফগানিস্তান
টাগারদের উল্লাস -বিসিবি

ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবার টি-২০ সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে লড়াকু সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের স্পিন ঘুর্ণিতে ধুঁকছে সফরকারী আফগানিস্তান। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১৬.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-২০তে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।  আগে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।

Advertisement

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নাসুমের কাছে পরাস্থ হলো তিন আফগান ব্যাটার। প্রথম ওভারে বোলিংয়ে নাসুম। দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলেছিলেন হজরতউল্লাহ জাজাই, কিন্তু পেছনে দৌড়ে গিয়েও বলটা হাতের নাগালে পাননি বোলার নাসুম, হলো এক রান। তবে এক বল পরই উইকেটের আনন্দে মেতে উঠলেন বাংলাদেশি স্পিনার। পেছনে সরে মারতে গিয়ে কাভারে ইয়াসির আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন গুরবাজ।  তৃতীয় ওয়ানডেতে শতক হাঁকানো গুরবাজ এবার ফিরলেন কোনো রান না করেই।

এরপর তৃতীয় ওভারে এসে প্রথম তিন বলের ব্যবধানে ফেরালেন হজরতুল্লাহ জাজাই ও অভিষিক্ত দারউইশ রাসুলিকে।

দুই দফায় বেঁচে গিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না হজরতউল্লাহ জাজাই। নাসুম আহমেদ ফুল লেংথ বল হাঁটু গেঁড়ে মিড অফের ওপর দিয়ে স্লগ করার চেষ্টা করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু একটু আগেভাগেই ব্যাট চালানোয় টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। মিড অফে সহজ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৭ বলে ৬ রান করে আউট জাজাই। 

আফগান টপ অর্ডারকে দাঁড়াতেই দিলেন না নাসুম আহমেদ। এবার তার শিকার অভিষিক্ত দারবিশ রাসুলি। অফ স্টাম্পের ওপর নাসুমের ঝুলিয়ে দেওয়া বল খানিকটা আলসে ভঙ্গিতে সুইপ করার চেষ্টা করেন রাসুলি। ব্যাটে-বলে হয়নি, বল ছোবল দেয় স্টাস্পে। রাসুলির অভিষেক ইনিংস শেষ ৬ বলে ২ রান করে।

মুস্তাফিজুর রহমানের বলে একটি বাউন্ডারির পরই জীবন পেলেন নাজিবউল্লাহ জাদরান। অফ স্টাম্পের বাইরে একটু লাফিয়ে ওঠা বল নাজিবউল্লাহর গ্লাভসে ছোবল দিয়ে উড়ে যায় পেছনে। কিপার লিটন ডাইভ দিয়ে দুই হাতে বল হাতে জমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বল জমাতে পারেননি গ্লাভসে।

তিন ওভারেই চার উইকেট হয়ে গেল নাসুম আহমেদের। গুঁড়িয়ে দিলেন তিনি আফগান টপ অর্ডার। তার চতুর্থ শিকার করিম জানাত।

শর্ট অব লেংথ বল হালকা টার্ন করে বেরিয়ে যাচ্ছিল। করিম চেয়েছিলেন জায়গা বানিয়ে ড্রাইভ করতে। কিন্তু সেই জায়গা তাকে দেননি বোলার। টাইমিংও তাই হয়নি ঠিকমতো। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন শেখ মেহেদি হাসান।

টানা বোলিংয়ে চার ওভারের স্পেল শেষ করলেন নাসুম আহমেদ। দারুণ বোলিংয়ে স্পর্শ করলেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। তার বোলিং ফিগার ৪-০-১০-৪।

গত সেপ্টেম্বরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১০ রানে ৪ উইকেট। ১৯ ম্যাচের টি-২০ ক্যারিয়ারে তার ৪ উইকেট আছে আরও একটি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত অগাস্টে ১৯ রানে ৪ উইকেট।

পানি পানের বিরতির পরই থেমে গেল আফগানদের প্রতিরোধের জুটি। সাকিব আল হাসানের বলে আউট হলেন মোহাম্মদ নবি। সাকিবের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ইনসাইড আউট খেলার চেষ্টা করেন নবি। কিন্তু টাইমিং ঠিকমতো করতে পারেননি, বল রাখতে পারেননি ফাঁকা জায়গায়। বরং সহজ ক্যাচ যায় কাভার সীমানায় আফিফ হোসেনের হাতে। ১৯ বলে ১৬ করে আউট হলেন নবি। 

সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট হয়ে গেল সাকিব আল হাসানের।

মোহাম্মদ নবি আউট হওয়ার পর আরেক থিতু ব্যাটসম্যান নাজিবউল্লাহ জাদরানরাও আউট হলেন সাকিবের বলে। দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আবারও বিপদে আফগানিস্তান।

বলটি অবশ্য খুব ভালো কিছু ছিল না। লেগ স্টাম্পের ওপর লেংথ বল, একটু ধীরগতির। নাজিবউল্লাহ চেষ্টা করেন গায়ের জোরে উড়িয়ে মারতে। শট খেলার মতোই বল। কিন্তু বেশি জোরে মারার চেষ্টায় হয়তো টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন নাজিবউল্লাহ। আকাশে ওঠা বল স্কয়ার লেগে মুঠোবন্দি করেন মুনিম শাহরিয়ার। নাজিবউল্লাহ আউট ২৬ বলে ২৭ রানে। 

রশিদ খানের সঙ্গে একরকম মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছিল শরিফুল ইসলামের। বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি পেসার দারুণ এক বাউন্সারে নাড়িয়ে দেন রশিদকে। একটু পর রশিদ চেষ্টা করেন শোধ তোলার। কিন্তু লাভ হয়নি। জিতে যান শরিফুলই।

শরিফুলের অফ স্টাম্পের বাইরের বেরিয়ে যাওয়া বল উড়িয়ে মারেন রশিদ। কাভার-পয়েন্ট সীমানার একটু ভেতরে ক্যাচ নেন ইয়াসির। রশিদ খান আউট ৭ বলে ১ রান করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!