ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ- ২০২২

সোনালী প্রজন্ম নিয়ে সোনার ট্রফির খোঁজে বেলজিয়াম

শীর্ষ ১০ দলের শক্তিমত্তা, দুর্বলতা, সম্ভাবনা
আরিফুল হক বিজয়
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ১৯ নভেম্বর ২০২২
সোনালী প্রজন্ম নিয়ে সোনার ট্রফির খোঁজে বেলজিয়াম
বেলজিয়াম দল

দরজায় কড়া নাড়ছে কাতার বিশ্বকাপ। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে উন্মাদনার জোয়ার। তাতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীরাও। প্রিয় দলকে নিয়ে সমান চলছে হিসেবনিকেশ। দলের শক্তিমত্তা কিংবা দুর্বলতা নিয়ে পাড়ায় মহল্লায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সমীকরণ মেলানোর আলোচনা। কেউ কেউ আবার গভীর চিন্তায় দলের সম্ভাবনার হিসেব নিয়ে মগ্ন।

ফুটবলপ্রেমীদের এই হিসেবনিকেশে সঙ্গী হচ্ছে জনপ্রিয় গণমাধ্যম ডেইলি বাংলাদেশ। পাঠকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের প্রিয় দলের শক্তিমত্তা সম্ভাবনা, দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হচ্ছি আমরা। আজ থাকছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল বেলজিয়াম।

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়াম। অনেক দিন ধরেই তারা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল। কাতারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাদেরকেও ফেভারিটের তালিকায় ধরা হচ্ছে। তবে এটাই হতে পারে তাদের শেষ সুযোগ। বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের জন্য শেষ সুযোগ।

Advertisement

কেভিন ডি ব্রুইনা বেলজিয়ামের প্রধান ভরসার নামএডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, ড্রেইস মার্টিন্স, থিবো কোর্তোয়া, রোমেলু লুকাকুদের সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামের এটাই শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা। গত বিশ্বকাপে তৃতীয় হওইয়া দলটা কাতার বিশ্বকাপেও মাঠে নামবে প্রায় অপরিবর্তিত দল নিয়ে। নতুন করে যোগ হওয়া লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডরা দলের গভীরতা বাড়িয়েছেন। 

বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া রবার্তো মার্টিনেজের মতো মাস্টার মাইন্ড কোচ। রেড ডেভিল খ্যাত বেলজিয়ামের অবশ্য বড় টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা নেই। যেটা যদিও পিছিয়ে দিচ্ছে তাদের। তাছাড়া এডেন হ্যাজার্ড বা লুকাকুরা পেরিয়ে এসেছেন ক্যারিয়ারের সোনালি সময়।

এবার কাতারের মাটিতে শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই পা রেখেছে বেলজিয়াম। অবশ্য শুধু স্বপ্ন বলা যায় না, স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো একটা দলও সাজিয়েছেন বেলজিয়ামের কোচ মার্টিনেজ। তারকায় ঠাসা দলটার শক্তিমত্তা ও সম্ভাবনার হিসেবনিকেশ মেলে ধরা যাক।

রোমেলো লুকাকুর মতো স্ট্রাইকার যেকোনো দলের জন্যই আশীর্বাদস্বরূপআসরে বেলজিয়ামের গোলবারের নিচে দাঁড়াবেন দীর্ঘদিনের সব পরীক্ষিত সৈনিকরা। তালিকায় আছেন থিবো কর্তোয়া, সিমোন মিগনোলেট ও কুন কাসতিলস। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই তিনজনের ভেতর কোর্তোয়াকেই দেখা যেতে পারে গোলবারের নিচে। কোচ মার্টিনেজের দীর্ঘদিনের প্রথম পছন্দ রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। 

বেলজিয়ামের মূল শক্তি নিশ্চিতভাবেই তাদের মিডফিল্ড। ডি ব্রুইনের দিক নির্দেশনায় পেছনে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন প্রতিভাবান ইউরি টিলেমানস, অ্যাক্সেল উইটসেল। সেই সাথে মিলানের ডি কেটেলিয়ের ও ব্রাইটনের ক্ষিপ্র উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডরা মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। 

রক্ষণভাগের মূল খেলোয়াড়েরা বেশ কিছুদিন ধরে ইউরোপের শীর্ষ সারির প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকলেও তাদের রসায়নের কথা ভুলে গেলে চলবে না। রক্ষণে আছেন ইয়ান ভার্টোনেগেণ, টবি আল্ডারভাইরেল্ড, লিয়ান্ডার দেন্দোনকার, জিনো দেবাস্ত, আর্থুর থিয়াটে ও ভাউট ফাস। এদের মধ্যে চীনের প্রাচীর হতে পারেন লিয়ান্ডার দেন্দোনকার ও ভাউট ফাস।

কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্রতিপক্ষকেতবে আক্রমণভাগ নিয়েই যতো চিন্তা বেলজিয়াম কোচের। বিস্ময়কর হলেও এবার বেলজিয়ামের মূল মাথাব্যথার কারণ তাদের আক্রমণভাগ। দুই হ্যাজার্ড ভাইয়ের পড়তি ফর্ম, বাতশুয়ায়ি, লুকাকুর ফর্মহীনতা গোলমুখে ফলাফল বের করে আনার ক্ষেত্রে রবার্তো মার্টিনেজের চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে নিশ্চিতভাবেই। 

দল যেমনই হোক, সোনায় মোড়ানো সেই ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে এবার নিজেদের সবটুকু দেবেন বেলজিয়ানরা। বাছাইপর্ব অনায়াসে পার করে এলেও নেশন্স লিগের কয়েক ম্যাচে পরাজয় তাদের জন্য জেগে ওঠার ডাক হিসেবে কাজ করলে বেলজিয়ামের সোনার ছেলেরা হয়ত তাদের স্বপ্ন পূরণ করেই বাড়ি ফিরবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!