কুরআনের সুরে বিশ্বকাপের উদ্বোধন, নতুন ইতিহাস
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় এবারের কাতার বিশ্বকাপের। যেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে নানা বিষয়।
কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে পুরো বিশ্ব অবাক হয় যখন এবারের আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। মুসলিম বিশ্বের আহবানে পুরো বিশ্ববাসির জন্য এ এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করলো কাতার।
বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে কাউন্ট ডাউনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানের আগমনের পরই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
.png)
শুরুতেই কাতারের নিজেদের ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। এরপর স্থানীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে পুরো স্টেডিয়ামে কোরআন তেলাওয়াত ও এর অর্থ পড়ে শোনান উপস্থাপক।

এরপরই একে একে গান ও বাদ্যের তালে স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরেন আয়োজকরা।
সেই ১৯৩০ সাল থেকে প্রতি চার বছর পর পর মাঠে গড়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। এ বছরের আগে পেরিয়ে গেছে ২১টি আসর। কিন্তু এবারের আসরটি একেবারেই ভিন্ন।
বদলে গেছে ইতিহাস। খরচ কিংবা আধুনিকায়ন সব দিক থেকেই ২০২২ বিশ্বকাপ আলাদা। এসবের ভিড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পবিত্র কুরআনের কথা।
The Holy Quran will be recited by Ghanem Al-Muftah during the opening ceremony of the #Qatarworldcup2022 at the Al Bayt Stadium.
— GTV SPORTS+ (@mygtvsports) November 20, 2022
The ceremony is live on GTVSports+ 🔥#GTVSports pic.twitter.com/vjP3da2VTQ
কেননা এবারের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলওয়াত করা হয়েছে। যা ৯২ বছরের ইতিহাসে কখনো করা হয়নি। এরকম দৃশ্য এর আগে কখনোই দেখেনি বিশ্ব।

নতুন এক দৃশ্যের সাক্ষী গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ভাষা-শিক্ষা কিংবা সংস্কৃতির মিল থাকায় আরব ভূখণ্ড পৃথিবীর মধ্যে নিজেদের আলাদাভাবে চেনাতে সক্ষম হলো। এবার সেই আরব মরুতে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের ঝংকার।
পরের পর্বে পূর্ববর্তী বিশ্বকাপগুলোর গানের রিমিক্সের তালে নেচে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। যেখানে গানের সুরের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বিশ্বকাপের মাসকটগুলোও মাঠজুড়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। ২০১০ বিশ্বকাপে কেনানের ওয়েভিন ফ্ল্যাগ গানের মাধ্যমে এই পর্ব শেষ হয়।
এবারের বিশ্বকাপের মাসকট লাইব ওড়ানোর পরই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ড্রিমিং গাইতে থাকেন বিটিএস পপ শিল্পী জাংকুক। এই গান শেষ হওয়ার পর কাতারের ফুটবল ইতিহাস তুলে ধরা হয়। যা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হাততালিতে মেতে ওঠে স্টেডিয়াম।

করতালির মাঝে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কাতার ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান। সেই সঙ্গে শুরু হয় আতশবাজি। এ সময় পুনরায় স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বর্তমান ও পূর্ববর্তী সব মাসকট প্রবেশ করে। যার মাধ্যমে শেষ হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।