ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
কাতার বিশ্বকাপ-২০২২

কাতার বিশ্বকাপ থেকে আয়ের রেকর্ড গড়লো ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২
কাতার বিশ্বকাপ থেকে আয়ের রেকর্ড গড়লো ফিফা
ছবি: ফিফা

টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষে শটটা নিতে আসলেন গনজালো মন্টিয়েল। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাকি নয়জন। মন্টিয়েলের নেয়া মাটিঘেষা শটটা ফ্রান্স দলপতি হুগো লরিসকে পরাজিত করতেই ছট লাগালেন সবাই। কেবল একজন হাত দিয়ে চোখমুখ চেপে ধরে বসে পড়লেন। 

তিনি মেসি। ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনার বিজয় উল্লাসের শুরুটা ছিল এমনই।

রাত যত বাড়তে লাগল, ততোই পৃথিবীর অজস্র সীমান্তে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো আনন্দ ঝড়ের সংকেত। সেই ঝড় ১৭০০০ কিলোমিটার দুরের বুয়েন্স আয়ারস থেকে পৌছে গেলো ছোট্ট সুন্দর এক ব-দ্বীপ বাংলাদেশে। কিংবা এই পৃথিবীর আনাচেকানাচে।

Advertisement

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে লিওনেল মেসির হাতে উঠলো পরম আরাধ্য সেই শিরোপা। আর তার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা কাতার বিশ্বকাপ ২০২২। এবারের এই আয়োজন থেকে যেমন খরচ করেছে কাতার। ঠিক তেমনটাই আয় করেছে ফিফা। যা এ পর্যন্ত আয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড ।

তো সর্বকালের সেরা এই বিশ্বকাপ থেকে কেমন আয় করলো বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি? চলুন জেনে নেই।

ফিফার আয় আসে মূলত পাঁচটি ক্যাটাগরি থেকে, এর মধ্য টিভি সম্প্রচার স্বত্ত্ব, বিপণন অধিকার, সেবা অধিকার ও টিকিট বিক্রি, নিবন্ধন অধিকারসহ অন্যান্য লাভ।

কাতার বিশ্বকাপকে ঘিরে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেই ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছে ফিফা। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়ের তুলনায় এটি অন্তত ১০০ কোটি ডলার বেশি।

আলাদা করে বললে মূল আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে সম্প্রচার স্বত্ত্ব থেকে। ফিফার মোট আয়ে এর অবদান প্রায় ৫৬ শতাংশ। 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ দেয় বিপণন খাত। আর বাকি ১৫ শতাংশ আসে অন্য খাতগুলো থেকে।

ফিফার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ত্ব থেকে তাদের আয়ের লক্ষ্য ছিল ২৬৪ কোটি ডলার। 

বিপণন অধিকার বিক্রি থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১৩৫ কোটি ডলার। সেবা ও টিকিট বিক্রি থেকে ৫০ কোটি এবং নিবন্ধন অধিকার বিক্রি থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ডলার।

কেলার স্পোর্টসের সমীক্ষা জানাচ্ছে, এ বছর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে টিকিটের দামও ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ। অর্থাৎ এত দামি টিকিট কেটে আগে কখনো বিশ্বকাপের খেলা দেখতে হয়নি ফুটবলপ্রেমীদের।

জার্মান সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৮ বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২২ বিশ্বকাপে টিকিটের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে প্রতিটি টিকিটের গড় দাম ছিল ৬৮৪ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৭ হাজার টাকারও বেশি।

ফলে, গোটা টুনার্মেন্টে প্রতিটি আসনের জন্য গড়ে ২৮৬ পাউন্ড হিসেবে ৩০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি থেকে ফিফার আয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এ খাতে পূর্বধারণার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ আয় হয়েছে সংস্থাটির।

বিশ্বকাপকে ঘিরে চার বছর পরপর চুক্তি পুনর্বিন্যাস করে ফিফা। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়েছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের হিসাব চক্র। ওই চার বছরে স্পন্সরদের কাছ থেকে ৬৪০ কোটি ডলার আয় হয় ফিফার।

কাতার বিশ্বকাপ শেষে পরের চার বছরে বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাটির আয় প্রথমবারের মতো ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর পেছনে মূল অবদান হবে নারী ফুটবল নিয়ে ফিফার নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮টি করার সিদ্ধান্ত। 

এবার কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে মোট ৩২টি দল। এছাড়া ২০২৫ সালে ৩২ টি ক্লাব নিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। সেখান থেকেও মোটা অংকের অর্থ প্রাপ্তির আশা করছে সংস্থাটি।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/সালি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!