ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
বিপিএল-২৩

লাল-সবুজের ক্রিকেটে তৌহিদ হৃদয়ের উঠে আসার গল্প

আরিফুল হক বিজয়:
প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ৯ জানুয়ারি ২০২৩
লাল-সবুজের ক্রিকেটে তৌহিদ হৃদয়ের উঠে আসার গল্প
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতগুলো সাফল্য এসেছে তার মধ্যে যুব বিশ্বকাপ জয়কেই এগিয়ে রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই এক সাফল্যের পেছনের নায়কদের অন্যতম তৌহিদ হৃদয়। বগুড়া থেকে উঠে আসা সম্ভাবনাময় এক তরুণ।

চারদিকে চলছে বিপিএলের আমেজ। এর মাঝে হঠাৎ করে হৃদয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনাতে অনেকে বিস্মিত হতে পারেন। ব্যাপারটা অবশ্যই স্বাভাবিক। বিস্মিত করার মতোই কাজ করে চলেছেন বগুড়ার এই তরুণ। ব্যাট হাতে মাতাচ্ছেন বিপিএলের নবম আসর। 

বিপিএলের নবম আসরের শুরু থেকেই হৃদয়ের ব্যাট শান্তির পরশ ছড়াচ্ছে দর্শকের হৃদয়ে। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে তিন ম্যাচের দুটোতেই করেছেন টানা ফিফটি। জিতেছেন টানা দুটো ম্যাচসেরার পুরস্কারও। আর তাতেই তাকে নিয়ে চলছে বন্দনা। 

Advertisement

হৃদয়ের উঠে আসা মুশফিকুর রহিমের শহর বগুড়া থেকে। মুশফিককে দেখে বগুড়ার যে কয়জন তরুণ ব্যাট-বল হাতে বাইশগজে বিচরণের স্বপ্ন দেখেতেন, তাদের একজন হৃদয়। টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের গল্পটা একটু ভিন্ন। 

মাত্র সাত বছরেই ক্রিকেটের প্রেমে এতটা মজেছিলেন হৃদয় যে, বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা মেতে থাকতেন। জন্ম ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর বগুড়ায়। ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখার শুরুতেই অবশ্য বড় একটা ধাক্কা খেতে হয় হৃদয়কে।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে বগুড়া থেকে এসেছিলেন ঢাকার বনশ্রীতে।  ভর্তি হয়েছিলেন একটি ক্রিকেট ক্লাবে। কিন্তু পরে জানতে পারেন সেটি ছিল আসলে ভুয়া। তাতে হয়ে বেশ কিছু টাকা গচ্ছা দিতে হয় তাকে। অবশ্য সেটা বাধা হতে পারেনি তার স্বপ্নে।

মায়ের অনুপ্রেরণায় ছুটে চলা হৃদয় একে একে পার হন বয়সভিত্তিক দল। দুর্দান্ত পারফর্ম করে জায়গা পান বাংলাদেশ যুব দলে। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নেয়া এই অলরাউন্ডার ২০১৮ সালে খেলেন যুব বিশ্বকাপ।

সবশেষ ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো যুবাদের আসরে খেলতে যান তিনি। বাংলাদেশের নবম ক্রিকেটার হিসেবে যুব ক্রিকেটে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার সুখস্মৃতি আছে হৃদয়ের। আছে আরো অনেক রেকর্ডের ফুলঝুরি।

যুব ক্রিকেটে টানা তিন সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে তার। যুব ক্রিকেটে তিনিই প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরির দেখা পান। এর আগে শেখর ধাওয়ান ও জ্যাক বার্নহাম তিন সেঞ্চুরি পেলেও তাদের সেঞ্চুরিগুলো ছিল বিশ্বকাপে। 

যুব ক্রিকেটে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক বর্ষপুঞ্জিতে চার সেঞ্চুরি করেছেন তৌহিদ। ২০১২ সালে চারটি করে সেঞ্চুরি ছিলো সাউথ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক ও উন্মুক্ত চাঁদের। যুব ক্রিকেটে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার।

যুব পর্যায়ে আলো ছড়ানো হৃদয় এখনো গায়ে জড়াতে পারেননি জাতীয় দলের জার্সি। মাঝে ফর্ম হারিয়ে পাইপলাইন থেকে কিছুটা ছিটকে পড়েছিলেন। ফিরলেন বিপিএল দিয়ে। আরো শাণিত, পরিপক্ব, সামর্থ্যের ঝুলি নিয়ে। এবার কেবল আলো ছড়ানোর পালা।

হৃদয়ের আইডল বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ক্যারিয়ার এখন মধ্যগগনে। কয়েকদিন পর হয়তো অপরাহ্ন পেরিয়ে চলে যাবে শেষের গল্পে। ঠিক তখনি লাল-সবুজের ক্রিকেটে নতুন সূর্য হয়ে উদয় হবে বগুড়ার আরেক সূর্য হৃদয়..

ডেইলি-বাংলাদেশ/সালি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!