ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]
বিপিএল-২৩

বিপিএল বিনোদনে আম্পায়ারিং যেন নতুন মাত্রা

আরিফুল হক বিজয়:
প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩
বিপিএল বিনোদনে আম্পায়ারিং যেন নতুন মাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বনাম ফরচুন বরিশালের মধ্যকার ম্যাচ। কুমিল্লার ইনিংসের ১৪তম ওভারের ২য় বল। পাকিস্তানি অফস্পিনার মোহাম্মাদ ইফতেখারের শর্ট লেংথের বলটা লেগ স্ট্যাম্পে পিচ করে আঘাত হানলো ব্যাটার জাকের আলী অনিকের প্যাডে। 

সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন করলেন ইফতেখার। আবেদনের জবাবে আম্পায়ারও আঙ্গুল তুলে দিলেন। ব্যাপারটা মনোঃপুত হলো না অনিকের। রিভিউয়ের জন্য ইশারা করলেন কুমিল্লার ব্যাটার। ফিল্ড আম্পায়ার শরণাপন্ন হলেন থার্ড আম্পায়ারের।

রিভিউতে দেখা যায়, বলটি শর্ট লেংথে পিচ করে লাইনের বাইরে গিয়ে আঘাত হেনেছে অনিকের প্যাডে। যেহেতু বলটির অর্ধেকের বেশি লাইনের বাইরে ছিল,সে হিসেবে আম্পায়ার্স কল 'ডেড' বলেই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তা না করে আঙ্গুল তুলে দিলেন ফিল্ড আম্পায়ার!

আম্পায়ারের এই আঙ্গুল তোলার দৃশ্য বিপিএলের নবম আসরের সবচেয়ে হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়। একের পর এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একমাত্র ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরের গায়ে। পুরো আসরটাই তাতে কষুলিত হচ্ছে। 

আসরের শুরুটাই হয়েছে আম্পায়ারিং বিতর্ক নিয়ে। বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই একটি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে না আসায় আম্পায়ারের সাথে তর্কে জড়ান ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। 

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ফরচুন বরিশাল। ম্যাচের ১৫তম ওভারের চতুর্থ বল বাউন্স খেয়ে মাথার উপর দিয়ে বল চলে যাওয়ার পরেও ওয়াইড বল না দেয়ায় আম্পায়ারের উপর ক্ষুব্ধ হন সাকিব। 

আম্পায়ার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার পর বলটি ওয়াইড বলে বারবার প্রতিবাদ করেন সাকিব। সাকিব আরেকবার আম্পায়ারের ওপর তেড়ে গেলে মুশফিকুর রহিম এসে সাকিবকে ক্রিজে নিয়ে আসেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে চিৎকার করেন সাকিব। 

এরপরও থেমে থাকেনি বাজে আম্পায়ারিংয়ের পসরা। পরের ঘটনাও বরিশাল ফরচুন ও রংপুর রাইডার্স ম্যাচে। ম্যাচে সিকান্দার রাজার বল এনামুল হক বিজয়ের প্যাডে লাগলে আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার তাতে সাড়া না দিলে রিভিউ আবেদন করে রংপুর। 

উদ্ভট এডিআরএসে চেক করে থার্ড আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দেন। বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি না থাকায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায় নি বল আদৌ স্টাম্পে লাগছিল কিনা। তবে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায় বল লেগ স্টাম্পের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিজয়। 

ঢাকা পর্বের সেই ধারা বজায় রইলো চট্টগ্রাম পর্বেও। তাতে প্রশ্ন উঠেছে আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে। আদৌ কি এই আসরের আম্পায়ারদের যথাযথ প্রশিক্ষণ আছে? এমন প্রশ্নও উঠে আসছে চারদিক থেকে। যে প্রশ্নকে সঙ্গী করেই বিপিএলে চলছে নিখাত বিনোদন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সালি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!