এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাথুরুসিংহের কোচ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদিও এর আগে সৃষ্টি হয়েছিল কিছুটা নাটকীয়তা। প্রথমে হাথুরুর নাম শোনা গেলেও পরে খবর বের হয়, তৎকালীন দল নিউ সাউথ ওয়েলসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন তিনি।
তবে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে জানা যায়, নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হাথুরুসিংহে। এরপর বিকেলে আসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। দ্বিতীয় মেয়াদে দুই বছরের জন্য বিসিবির সঙ্গে চুক্তি করেছেন তিনি, যা শুরু হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে।
.png)
এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ ছিলেন ৫৪ বছর বয়সী হাথুরুসিংহে। সে সময়ের পারফরম্যান্সের হিসেবে এখন পর্যন্ত সাফল্যের বিচারে সেরা কোচ তিনিই। তার অধীনে ২১টি টেস্টের ছয়টিতে জয়ের পাশাপাশি চারটি ম্যাচে ড্র করে বাংলাদেশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে পায় সেরা সাফল্য। টি-২০ ফরম্যাটেও পরিসংখ্যানটা খারাপ না।
২০১৪ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিল বিভীষিকাময় বছর। সেবার জয়ের কাছে গিয়েও বারবার হারের স্বাদ পেতে হয়েছে টাইগারদের। সে বছর আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে লাল-সবুজদের ভরাডুবির পর শেন জার্গেনসেনের স্থলাভিষিক্ত হন হাথুরুসিংহে।
লংকান এই সাবেক ক্রিকেটার কোচ হয়ে আসার পর ডিসেম্বর থেকে বদলে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেখানে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারতেই যেন ভুলে যায় টাইগাররা। একে একে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকে ওয়ানডেতে সিরিজ হারানোর পাশাপাশি শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট জয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আসে আইসিসি ফরম্যাটে সেরা সাফল্য।
হাথুরুসিংহের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক সঠিক খেলোয়াড় বাছাইয়ে দুরদর্শীতা। মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাসের মতো ক্রিকেটাররা তার সময়েই জাতীয় দলে সুযোগ পায়। যারা এখন সব ফরম্যাটেই দলের অন্যতম প্রধান সদস্য। তার অধীনে ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলাররাও পেয়েছে দারুণ সাফল্য। যার ফলে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান।
তবে তরুণদের ক্ষেত্রে হাথুরু যেমন সেরা ছিলেন, তেমনই সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব নিয়েও ছিল গুঞ্জন। বিশেষ করে দেশের ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তার কারণেই আচমকা টি-২০ ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন, এটাই মনে করেন অনেকে। এর পাশাপাশি অন্যান্য সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও নানা সময়ে তার মনোমালিন্যের খবর বের হয়েছে।
ধারণা করা হয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরমে উঠলেই কোচ হিসেবে বিদায় নেন হাথুরুসিংহে। আবার যখন তিনি কোচ হয়ে আসছেন, তখন তামিম-মুশফিক-রিয়াদরা আছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়। ব্যাটও তাদের হয়ে কথা বলছে না। ফলে সিনিয়রদের ওপর চাপ নিঃসন্দেহে বাড়বে। এ অবস্থায় যদি তারা পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে অবশ্য লাভ হবে বাংলাদেশেরই। আর তরুণ ক্রিকেটার বের করে আনার ক্ষেত্রে হাথুরুর জহুরি চোখের কথা তো সকলেরই জানা।
সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা হাথুরুর আবার ফেরা নিয়ে আশাবাদী হতেই পারেন। হতে পারে তার হাত ধরে আরো একবার ফিরে আসতে পারে টাইগারদের সোনালি সময়। হতে পারে এবার সাফল্য ছাড়িয়ে যেতে পারে আগের সবকিছুকেই। লংকান এ কোচকে তাই খুশিমনে বরণের প্রস্তুতি নিতেই পারেন ক্রিকেটভক্তরা।