ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

যে দেখায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ!

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ২১:১৯, ১ এপ্রিল ২০২৩
যে দেখায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ!
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মানুষদের কাছে আর্জেন্টিনা একটি ভালোলাগা ও ভালোবাসার নাম। যে দেশটির প্রতি ভালোবাসা কখনো আপনাআপনি জন্মেনি। আবার হঠাৎ করে কেউ এসে বলে দেয়নি যে আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসো! বলা হয়ে থাকে ফুটবলের কোনো জাত-পাত কিংবা গোত্র নেই। এই ফুটবলই মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, আবার এই ফুটবলই মানুষকে দেয় আনন্দ।

বাংলাদেশের কথাই ধরি, বাংলাদেশের হাতে গোনা দশজন মানুষের মাঝে আটজনই খেলাপ্রেমী। যাদের মধ্যে অধিকাংশ ভালোবাসে ফুটবলকে। আর ফিফা বিশ্বকাপ আসলে তো কথাই নেই। তখন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সবাই। এক অংশ হয়ে যায় আর্জেন্টিনা, অন্য একটি অংশ হয় ব্রাজিল।

তবে গেলো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষদের মেসিদের প্রতি প্রেম এবং ভালোবাসার কথা জেনে গেছে আর্জেন্টিনা। তাইতো নানা কাজে নানা সময়ে বাংলাদেশের মানুষদের ভালোবাসার প্রতিদান দেয় তারা। যেমন শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আইরিশ ধারাভাষ্যকার অ্যান্ড্রু লিওনার্ড বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিবের হাতে আর্জেন্টিনা জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি তুলে দেন।

Advertisement

বাংলাদেশের মানুষদের আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসায় পতাকা হাতে রাস্তায় ঢল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর্জেন্টিনা জাতীয় ক্রিকেট দলের একটি জার্সি গ্রহণ করেছেন। এটি আর্জেন্টিনার ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হার্নান ফেনেল এবং নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক অ্যালিসন স্টকস বাংলাদেশকে দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ধারাভাষ্যকার অ্যান্ড্রু লিওনার্ড শার্টটি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন।’

মজার ব্যাপার, ফুটবলে না হলেও ক্রিকেটে তিনবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবারই লাতিন আমেরিকার দেশটিকে হারিয়েছে টাইগাররা। বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা। আইসিসি ট্রফিতে এই তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেসময় যা ছিল ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব।

আর্জেন্টিনার পেশাদার ফুটবল লিগের ভেরিফায়েড টুইটার ও ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে এমন ছবি পোষ্ট করে তারা।

বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফিতে। সেবার উস্টারশায়ারের রেসকোর্স গ্রাউন্ডে ৪৯.২ ওভার শেষে ১২২ রান করে আর্জেন্টিনা। তার জবাবে ৩৯.১ ওভারে জয়ে বন্দরে পৌছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। 

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আর্জেন্টিনা: ৪৯.২ ওভারে ১২২ (রবার্ট কার্টন ২২, পিটার স্টকস ১৯; সামিউর রহমান ১০-৩-১৭-১, তানজীব আহসান সাদ ৪-০-২০-০, গোলাম ফারুক সুরু ৭-১-১৫-১, গাজী আশরাফ লিপু ১০-৪-১৭-১, রফিকুল আলম ৪-০-১৪-০, জাহিদ রাজ্জাক মাসুম ২-১-১-০, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ৪.২-১-৯-২)।

বাংলাদেশ: ৩৯.১ ওভারে ১২৫/৩ (রকিবুল হাসান ৪৭, জাহিদ রাজ্জাক মাসুম ২২, গাজী আশরাফ লিপু (অধিনায়ক) ৬, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ২০, নেহাল হাসনাইন ২১)।

দ্বিতীয় দেখা হয় ১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফিতে। নাইরোবিতে সিম্বা ইউনিয়ন গ্রাউন্ডে নেমেছিল বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনা দল। ৪৩.২ ওভারে শেষে অলআউট হয়ে ১২০ রান করে মেসির দেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ ওভাবে ৭ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের আকাশে বিশ্বকাপের সময় উড়ে আর্জেন্টিনার পতাকা।  বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ও শেষ দেখা হয় ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে। সেবারও ম্যাচ জিতে টাইগাররা। দেশটির ইউনিভার্সিটি অব মালয় গ্রাউন্ডে ৪৮.৩ ওভারে শেষে ১৩৮ রানে আর্জেন্টিনাকে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান করে জয়ে বন্দরে পৌছে যায় টিম টাইগার।

বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: 
 
আর্জেন্টিনা: ৪৮.৩ ওভারে ১৩৮ (বের্নাদো ইরিগোয়েন ৩০, মিগেল মরিস ১৮, ব্রায়ান রবার্ট ১৫, অতিরিক্ত ২০; সাইফুল ইসলাম ১০-২-২৪-০, হাসিবুল হোসেন শান্ত ৫.৩-১-৯-২, এনামুল হক মনি ১০-৪-১৮-৩, নাঈমুর রহমান দুর্জয় ১০-০-২১-৩, মোহাম্মদ রফিক ৯-০-৩৬-১, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ৪-১-১৯-০)।

বাংলাদেশ: ২৪ ওভারে ১৪২/৫ (আতহার আলি খান ৩৯* (৫৭ বল), নাঈমুর রহমান দুর্জয় ৫৩ (৩৭ বল), সানোয়ার হোসেন ১, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ৪, আকরাম খান (অধিনায়ক) ১১, মিনহাজুল আবেদীন ৫, মোহাম্মদ রফিক ১৫* (৭ বল); ক্রিস্তিয়ান তুনন ৩/৪২)।

ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশ ফের ক্রিকেটে মুখোমুখি হবে কি না তা বলা মুশকিল। তবে অতীত লড়াইয়ের কথাগুলো ভেবে সুখস্মৃতি পেতেই পারেন দেশের ক্রিকেটভক্তরা।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!