ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

নাটকীয় ভাবে মুস্তাফিজুরের দিল্লিকে হারিয়েছে মুম্বাই 

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৩, ১২ এপ্রিল ২০২৩
নাটকীয় ভাবে মুস্তাফিজুরের দিল্লিকে হারিয়েছে মুম্বাই 
ছবি: সংগ্রহীত

শেষ দুই ওভারে লাগে ২০ রান। বোলিং কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। বোলিংয়ের শুরুটা করলেন ভালো। প্রথম তিন বলে দিলেন মোটে তিন রান। তবে এরপরই খেই হারালেন। শেষ তিন বলে যেন এলোমেলো হয়ে গেলেন। দুই ছক্কায় দিলেন ১৩ রান। সমীকরণ হয়ে গেল একদম সহজ। ৬ বলে প্রয়োজন ৫ রান। 

তবে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ জমিয়ে দিলেন আনরিখ নরকিয়া। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দুই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখলেন শেষ বল পর্যন্ত। নাটকীয় লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অবশ্য জিততে পারলো না দিল্লি ক্যাপিটালস। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) নাটকীয় ভাবে মুস্তাফিজুরের দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। 

১৭২ রান নিয়ে দিল্লি শুরুতে বাজে বোলিং করলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি তারা।  আসরে নিজেদের পথচলা শুরুর আগে মুস্তাফিজকে প্রথম তিন ম্যাচে খেলায়নি দিল্লি। চতুর্থ ম্যাচে খেলতে নেমে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বাঁহাতি এই পেসার।  

Advertisement

ছন্দহীন বোলিংয়ে ৪ ওভারে দেন ৩৮ রান। মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মার উইকেটটি অবশ্য তিনি নেন।  ২৪ বলের মধ্যে মুস্তাফিজ ডট দেন ১১টি। হজম করেন ৫ চার ও ২ ছক্কা।
 
রান ডিফেন্ড করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন ওয়ার্নার। প্রথম বল ডট দিলেও পরের তিন বলে তিনটি চার হজম করেন তিনি।  মুস্তাফিজ ওভার শেষ করেন ১৩ রান দিয়ে। 

পাওয়ার প্লেতে আর বল পাননি মুস্তাফিজ। তাকে আক্রমণে আনা হয় পঞ্চদশ ওভারে। কাটার, ইয়র্কার, স্লোয়ার বাউন্সারে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেন তিনি। ওই ওভার থেকে আসে কেবল ২ রান।  স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে মুস্তাফিজকে পরের ওভারে স্বাগত জানান রোহিত। পরের তিন বলে কোনো রান দেননি মুস্তাফিজ। পঞ্চম বলে রোহিতকে ফেরান তিনি। লম্বা সময় পর আইপিএলে ফিফটি করা মুম্বাই অধিনায়ক ৬ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৬৫ রান। 

এর আগে প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি পৃথ্বী শ। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা এই ওপেনার কিছুতেই যেন নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন না। ১৫ রান করে পৃথ্বী বিদায় নিলে ভাঙ্গে ৩৩ রানের ওপেনিং জুটি।

এরপর মানিশ পান্ডেকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে ১৮ বলে ২৬ রানে থেমেছেন মানিশ। এই টপ অর্ডার ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পরই পথ হারায় দিল্লি। ৭৬ রানে ২ উইকেট থেকে দলীয় শতক পূরণ করার আগেই টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটারকে হারায় তারা। ইয়াশ ধুল কিংবা রভম্যান পাওয়েলের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। 

এরপর আরও একবার ম্যাচের দৃশ্যপটে পরিবর্তন। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসে ঝড় তুলেন অক্ষর প্যাটেল। একপ্রান্তে ওয়ার্নার ধীরগতির ইনিংস খেললেও অপর প্রান্তে প্রতিপক্ষ বোলারদের কচুকাটা করেছেন এই অলরাউন্ডার। তার ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে আবারও বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখে দিল্লি।

কিন্তু এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর আর কেউই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। ফিনিশিংটা ঠিকমতো দিতে পারলে ২০০ রানের মাইলফলকে চোখ রাখতে পারতো দিল্লি। তবে ওয়ার্নার ৪৭ বলে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরার পর লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেটা আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। যা মুম্বাইয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!