শুক্রবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাইফ হাসান। এ ম্যাচে ৪৯.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২১১ রান সংগ্রহ করেন ধুল-সুদর্শনরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এতে আসরের ফাইনালে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করবে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত।
ভারতের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। নাইম-তামিম জুটিতে ১২ ওভারে ৭০ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। তবে ১৩তম ওভারে চতুর্থ বলে মানবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন নাইম (৩৮)।
.png)
এরপর উইকেটে আসেন জাকির হাসান। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়ে সিন্ধুর বলে নিকিনের তালুবন্দী হন তামিম। আউট হওয়ার আগে আট বাউন্ডারিতে ৫১ রান করেন এ বাঁহাতি। এরপরের ওভারেই উইকেট বিলিয়ে দেন জাকির (৫)।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। অবশ্য টাইগার দলপতি সাইফ হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে চাপ সামলে এগোতে থাকে টাইগাররা। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অভিষেকের বলে কাটা পড়েন সাইফ (২২)।
এরপর আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে রীতিমতো ছিটকে যায় সাইফরা। তবে তখনও জয়ের ব্যাটে আশা দেখছিল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
উইকেটের অন্যপ্রান্তে সৌম্য, আকবর ও মাহেদীর তাড়াহুড়োতে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর আর ম্যাচেই ফিরতে পারেনি তারা। অবশেষে ধুঁকতে ধুঁকতে ১৬০ রানে ভেলা থেমে যায় সাইফ হাসানের দলের।
এদিন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকার করেন নিশান্ত সিন্ধু।
এর আগে ভারতের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন সাই সুদর্শন ও অভিষেক শর্মা। এ জুটির ব্যাটে ভালোই এগোচ্ছিল দলটি। তবে ৮তম ওভারের শেষ বলে সাকিবের পেসে পরাস্ত হয়ে আকবরের তালুবন্দী হন সুদর্শন। এ ম্যাচে আউট হওয়ার আগে তিন বাউন্ডারিতে ২১ রান করেন তিনি।
এরপর উইকেটে আসেন নিকিন জোশ। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন অভিষেক। অবশ্য ম্যাচের ১৪তম ওভারের শুরুতেই রাকিবুলের ঘুর্ণিতে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন নিকিন। তবে টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে যান এ ব্যাটার।
যদিও আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জীবন পেয়ে ব্যক্তিগত ইনিংস লম্বা করতে পারেননি নিকিন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই টাইগার দলপতি সাইফের ঘূর্ণিতে কাটা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি খেলেন ১৭ রানের ইনিংস।
পরের ওভারেই নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা (৩৪)। তাকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান রাকিবুল।
এরপর উইকেটে আসেন ভারতের দলপতি ইয়াশ ধুল। তার সঙ্গে জুটি বাধার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন নিশান্ত সিন্ধু।
ম্যাচের ২৪তম ওভারে রাকিবুলের বলে তামিমের তালুবন্দী হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সিন্ধু। এ ম্যাচে ১৬ বলে ৫ রানের ইনিংস খেলেন এ ব্যাটার। উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফেরেন রিয়ান পরাগ (১২) এবং ধ্রুব জুরেল (১)।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকতে থাকে ভারত ‘এ’ দল। তবে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করে ফিফটি তুলে নেন দলটির অধিনায়ক ইয়াশ। পরে তার সঙ্গে ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন মানব ও রাজবর্ধন। এতে ২১১ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
এদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন শেখ মাহেদী, তানজিম হাসান সাকিব ও রাকিবুল হাসান।