ইউরোপ ছেড়ে এ মৌসুমে আমেরিকায় পাড়ি কমিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন মেজর লিগ সকারের তলানির দল ইন্টার মিয়ামিতে। আর এমন একটা দলই কিনা মেসির ছোঁয়া পেয়ে জেগে উঠেছে ভিন্নভাবে। যার প্রমাণ, আর্জেন্টাইন মহাতারকা যোগ দেওয়ার পর এক ম্যাচও হারেনি তারা!
সেই ধারাবাহিকতায় লিগ কাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে এফসি ডালাসের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ইন্টার মিয়ামি। যেখানে পুরো ম্যাচ ছিল মেসিময়!
.png)
টয়োটা স্টেডিয়ামে এফসি ডালাসের বিপক্ষে পেনাল্টিতে ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছে ইন্টার মিয়ামি। এর আগে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪-৪ ব্যবধানে ড্র ছিল।
ম্যাচের সময় তখন ৬৮ মিনিট। এফসি ডালাসের কাউন্টার অ্যাটাক সামাল দিতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান ইন্টার মিয়ামির রবার্ট টেইলর। স্বাগতিক ডালাস তখন ৪-২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে। তখনই হয়তো লিগ কাপ থেকে ইন্টার মিয়ামির বিদায় দেখে ফেলেছিল অনেকেই।
বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রে লিওনেল মেসির প্রথম হারের উত্তাপ টের পাচ্ছিলেন সবাই। কিন্তু মাঠে যখন মেসি, তখন হাল ছাড়ার আর উপায় কি! আর তাই মেসি লিখলেন আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প। যেখানে শেষ ১০ মিনিটে দলকে এনে দিয়েছেন দুটি গোল!
বামপ্রান্তে মেসির ফ্রি কিক থেকে এসেছে আত্মঘাতী গোল। আর এরপরই ডানপ্রান্তের ফ্রি কিক থেকে নিজেই করেছেন অবিশ্বাস্য এক গোল। শেষ পর্যন্ত ৪-৪ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকে। যেখানে ডালাসকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছে মেসির দল।
লিগ কাপের শেষ ষোলর ম্যাচে প্রথমবারের মত প্রতিপক্ষের মাঠে দেখা গেল মেসির ঝলক। এদিন একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন তিন সাবেক বার্সা তারকা মেসি, সার্জিও বুসকেটস এবং জর্দি আলবা।
ম্যাচের ৬ মিনিটেই দেখা গেছে চিরচেনা মেসি-আলবা রসায়ন। বাম প্রান্ত থেকে আলবার পাসে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এলএমটেন। শুরুতেই গোল হজম করে নিজেদের খেলার ধরণই পালটে ফেলে প্রতিপক্ষ এফসি ডালাস।
এ সময় পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে পুরোপুরি কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবলে মনোযোগ দেয় তারা। তাতে সফলতাও এসেছে হাতে নাতে। ৩৭ মিনিটে ফাকুন্দো কুইগনন আর ৪৫ মিনিটে বেনার্ড কামুঙ্গোর গোলে ২-১ এর লিড পায় ডালাস।
২-১ ব্যবধানে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে আবারও চাপের মুখে পড়ে মিয়ামি। ডালাসের কাউন্টার অ্যাটাক আরো একবার এগিয়ে দেয় তাদের। ৬৩ মিনিটে অ্যালান ভালেস্কোর গোলে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।
কিন্তু মেসি তখনও ছিলেন। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড শক্ত করে শুরু করলেন প্রতি-আক্রমণ। ৬৫ মিনিটেই এক গোল শোধ করে মিয়ামি। মেসির পাস থেকে বল যায় জর্দি আলবার পায়ে। সেখান থেকে ছোট এক পাস। তাতে বল জালে জড়ান বেঞ্জামিন ক্রেমাশ্চি। ৩-২ গোলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে থাকে মিয়ামি।
এরপরেই ফের লিড বাড়ায় ডালাস। ৬৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন ইন্টার মিয়ামির টেইলর। তখনও ম্যাচ জয়ের আনন্দে বিভোর ডালাস। তারপরই আরো একবার দেখা গেল মেসির ঝলক। যুক্তরাষ্ট্র দেখলো মেসির দুইটি অতিমানবীয় ফ্রি কিক।
৮০ মিনিটে মেসির ফ্রি কিকে বল নিজেদের জালে জড়ান ডালাস লেফটব্যাক মার্কো ফারফান। আর ৮৫ মিনিটে মেসি নিজেই করে বসেন দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক গোল। ৪-৪ গোলে শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট।
লিগ কাপের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বাদ দিয়েই পেনাল্টিতে নামে দুই দল। তাতে সফল ছিলেন প্রত্যেকেই। কেবল নিজেদের ২য় শটে গোল মিস করেন ডালাসের প্যাক্সটন পমিক্যাল। আর সেটাই ছিল দুই দলের ব্যবধান। টাইব্রেকে ৫-৩ গোলের এই জয় ইন্টার মিয়ামিকে নিয়ে গিয়েছে লিগ কাপের শেষ আটে।