এশিয়া কাপের ১৬তম আসরের আয়োজক পাকিস্তান। সাম্প্রতিক ফর্ম ও স্বাগতিক হওয়ার কারণে ‘ফেবারিট’ তকমা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন বাবর-রিজওয়ানরা। সেই লক্ষ্যে শুরুটাও দারুণ হয়েছিল তাদের। কিন্তু সুপার ফোরের লড়াইয়ে বড় ধাক্কায় ফাইনাল তো দূরের কথা, এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছে মেন ইন গ্রিনরা।
মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার ফোর সবখানেই এগিয়ে ছিল স্বাগতিক পাকিস্তান। কিন্তু ছোট্ট ছোট্ট ভুলের মাশুলে এশিয়া কাপ মিশন শেষ হয়েছে তাদের।
.png)

এবারের আসরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এমনভাবে সূচি তৈরী করেছিল, যেন ফাইনালের আগেই একাধিকবার মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান। আর হয়েছিলও তাই। কিন্তু গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি পণ্ড হয় বৃষ্টিতে। আর সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের কাছে লজ্জার হার দেখতে হয়েছে বাবর আজমের দলকে। তবে পাকিস্তানকে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দিয়েছে তারুণ্যনির্ভর শ্রীলংকা।
বৃহস্পতিবার কলম্বোতে অঘোষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকা-পাকিস্তান। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে লংকানরা। এতে বাবরদের স্বপ্নভঙ্গ করে ফাইনালে পৌঁছে গেছে দাসুন শানাকার দল।
সুপার ফোরে পাকিস্তানের ‘ধাক্কা’
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে দারুণ শুরু করে পাকিস্তান। এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে ১৯৩ রানেই আটকে ফেলে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট ও ৬৩ বল হাতে রেখেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাবর আজমের দল।
এ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। এ ম্যাচকে ঘিরে রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছিল। এসিসির এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই সমালোচনায় মেতেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ ডে’তেই গড়িয়েছিল ম্যাচটি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। আসরে যা ছিল দলটির জন্য বড় ধাক্কা। এমন হারের পর ভারতের কাছে শীর্ষস্থানও হারায় মেন ইন গ্রিনরা।

লক্ষ্য ছিল শ্রীলংকা। কিন্তু সেই লংকানদের কাছেও নাস্তানাবুদ হয়েছে পাকিস্তান। কার্টেল ওভারের ম্যাচে ২৫২ রান তোলেন বাবররা। কিন্তু শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে এ ম্যাচে শেষ হাসিটা হাসে ক্রিস সিলভারউডের শিষ্যরা। ফলে রাউন্ড রবিন লিগে পয়েন্ট টেবিলের তিনে থেকে আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
চোটের থাবায় রউফ-নাসিম
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলটির পেসত্রয়ী শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। এ পেসত্রয়ী ছিল প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাছে রীতিমতো ভয়ের কারণ। কিন্তু ইনজুরির কারণে সুপার ফোরের অঘোষিত সেমিফাইনালে দলের বাইরে ছিলেন নাসিম ও রউফ।
সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমে পেশির টানে দল থেকে ছিটকে যান হারিস রউফ। একই ম্যাচের ৪৯তম ওভারে কাঁধের চোটে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাসিম শাহ। বিশ্বকাপের আগে বাড়তি ঝুঁকি না নিতেই তাদের পরিবর্তে জামান খান ও শাহনেওয়াজ দাহানিকে দলে ফেরায় পিসিবি। বিশ্বকাপর আগমুহূর্তে হয়তো ঝুঁকি নিতে চায়নি এজন্য তাদের দু’জনকে পরিচর্চা কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। এদিকে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান ওয়াসিম জুনিয়র ও জামান খান। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তাদের দু’জনের কেউই।

বিবর্ণ শাহিন শাহ আফ্রিদি
নতুন বলে শাহিন শাহ আফ্রিদি কতটা ভয়ংকর, সেকথা নতুন করে না বললেও হয়। কিন্তু শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে বল হাতে বাবরের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে যখন ভেলকি দেখিয়েছেন, ততক্ষনে পাকিস্তান জয়ের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিল। এ ম্যাচের শুরুতে আফ্রিদি যদি লংকান টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে পারতেন তাহলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।
ব্যাট-বল হাতে ব্যর্থ শাদাব-নওয়াজ
শ্রীলংকার বিপক্ষে শুরুতে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। সেই ব্যর্থতা কাঁধে নিয়ে হয়তো বোলিংয়ে পুষিয়ে দিতে পারতে তারা। কিন্তু সেখানেই আলো ছড়াতে পারেননি এ দুই অলরাউন্ডার। লংকান ম্যাচে বল হাতে খরুচে ছিলেন শাদাব খান। ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৫ রান খরচ করে ১টি উইকেট নেন শাদাব। আর কিপ্টে বোলিং করলেও উইকেট বঞ্চিত ছিলেন নওয়াজ।

স্রোতের বিপরীতি গিয়ে চমক দেখিয়েছেন ইফতিখার আহমেদ। দলের দুঃসময়ে ব্যাটিংয়ে হাল ধরার পাশাপাশি লংকান ব্যাটারদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এদিন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের ‘চাচা’ খ্যাত ক্রিকেটার।
সুযোগ তৈরীতে ব্যর্থ পাকিস্তানি বোলাররা
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে (কার্টেল ওভার) নির্ধারিত ৪২ ওভারে ২৫২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এমন উইকেটে যা চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছিল। কিন্তু লংকান ব্যাটারদের ফাঁদে ফেলতে পারেননি পাক বোলাররা। মাঝেমধ্যে উইকেট হারালেও বড় বড় দুটি পার্টনারশিপ গড়ে তোলে দাসুন শানাকার দল।

দ্বিতীয় উইকেটে নিশাঙ্কা-মেন্ডিস জুটিতে ৫৭ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলংকা। আর তৃতীয় উইকেটে সাদিরা-মেন্ডিস জুটি করে ১০০ রান। এরপর সাদিরা ও আসালঙ্কা জুটির ৩৩ রানে জয়ের সুবাস পায় লংকান বাহিনী। যখন উইকেটের প্রয়োজন ছিল তখন সুযোগ তৈরীতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন পাকিস্তানি বোলাররা। যা ছিল দলটির পরাজয়ের অন্যতম কারণগুলোর একটি।
ভারতের বিপক্ষে লজ্জার হার
শ্রীলংকার বিপক্ষে হারের তেতো স্বাদ পাওয়ার আগে ভারতের বিপক্ষে ‘লজ্জা’ উপহার পেয়েছিল পাকিস্তান দল। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোহিতদের কাছে ২২৮ রানে হেরে যান বাবররা। সেই ধাক্কার প্রভাব পয়েন্ট টেবিলেও টের পায় স্বাগতিকরা। এতে রান রেটে অনেকটাই পিছিয়ে যায় মেন ইন গ্রিনরা। ফলে গতকালের ম্যাচটি যদি বৃষ্টিতেও ভেস্তে যেত তাতেও ফাইনালে পৌঁছে যেত শ্রীলংকা।