অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে মাঠে নামতে পারেননি শামার। ২১৬ রানের লক্ষ্যে ২ উইকেটে ৬০ রান নিয়ে দিন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য ব্রিসবেন টেস্টের চতুর্থ দিনেও শামারের খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে মাঠে নেমেছেন।
শুধু ফিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকেননি, ম্যাচের ২৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসেছেন। হাত ঘুরিয়েছেন টানা ১১.৫ ওভার। এ সময়ে যা করেছেন, তাতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এ ক্যারিবীয় পেসার।
.png)
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৭ বছর পর টেস্ট জিতেছে উইন্ডিজ। স্বাগতিকদের শেষ ৮ উইকেটের ৭টি নিয়েছেন এই সিরিজেই অভিষিক্ত শামার। আহত বাঘের মতো অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছেন। ইতিহাসের পাতা ওলট-পালট করা গ্যাবার নায়ককে নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায় ক্রিকেট দুনিয়ায়।
কিন্তু মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা শামারকে এর আগে চিনতেনই বা কজন! গ্যাবা রূপকথার গল্পের নায়কের বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়ায় ঢুঁ মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স।
শামারকে নিয়ে বিস্তারিত জানতে মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি সাহায্য নেন উইকিপিডিয়ার। ক্যারিবীয় পেসারের গল্প পড়ার পরের অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন এবি, ‘যদি জীবনকে নিয়ে ভাবতে চান নতুন করে, উইকিপিডিয়ায় গিয়ে শামারের জীবনী পড়ে আসুন। ওর পথচলার গল্প পড়তে গিয়ে রীতিমতো আমার চোখে পানি এসেছে। অন্ততপক্ষে অনুপ্রেরণা পাবেন।’
আরেক টুইটে ডি ভিলিয়ার্স লিখেছেন, ‘শামার জোসেফের রূপকথা। স্পেশাল মুহূর্ত।’
শামার যে জায়গা থেকে উঠে এসেছেন, এটা রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। গায়ানার বিচ্ছিন্ন এক গ্রাম, রাজধানী থেকে নদীপথ ছাড়া যেখানে যাওয়ার উপায় নেই। নৌযানের সাহায্যে সেখানে পৌঁছাতেও আবার কখনো কখনো দু-তিন দিন লেগে যায়। যে গ্রামে ইন্টারনেট গেছে ২০১৮ সালে। সেই বারাকা গ্রাম থেকে উঠে আসা শামার জোসেফ আজ ইন্টারনেট ট্রেন্ডিংয়ে, ইতিহাসের পাতায়।