অপরদিকে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন মাহমুদউল্লাহ। সেই হিসাবে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তার পথচলার ১৭ বছর চলছে। ক্যারিয়ারের লম্বা এই যাত্রাতে ক্লান্তি তো দূরের কথা, রিয়াদের ব্যাট চলছে তরবারির মতো।
ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে ক্লান্তি ভর না করলেও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রিয়াদকে। ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কয়েকমাস আগে ‘বিশ্রাম’-এর ছায়ায় দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। এতে বিশ্বকাপে তার সুযোগ পাওয়া নিয়েই ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। ছয় মাস ছিলেন দলের বাইরে। সে সময় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তিই দেখে ফেলেছিলেন অনেকে।
.png)
দলের বাইরে থাকলেও মনোবল হারাননি রিয়াদ। নিজেকে প্রস্তুত করেই জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা করে নেন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার যথাযথ প্রতিদানও দিয়েছেন অভিজ্ঞ এ ক্যাম্পেইনার।
ভারত বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন রিয়াদ। আসরে আট ম্যাচে অংশ নিয়ে ৫৪.৬৬ গড়ে বাংলাদেশী ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২৮ রান করেছেন তিনি। এক সেঞ্চুরিতে তার স্ট্রাইক রেটও ছিল সাড়াজাগানো ৯১.৬২।
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ইনজুরির কবলে পড়েন মাহমুদউল্লাহ। চোটের গভীরতা অনুধাবন করে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। এতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে ছিলেন না। কিন্তু নিজেকে দশম বিপিএলের জন্য প্রস্তুত করছিলেন পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এই সদস্য।
দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ক্রিকেট আসর বিপিএলেও হাসছে রিয়াদের ব্যাট। এবারের আসরে সিলেটের বিপক্ষে ২৪ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন তিনি। এই ইনিংসের পরেই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে রিয়াদের থাকা নিয়ে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক জালাল ইউনুস বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ বিশ্বকাপ থেকেই দুর্দান্ত খেলছে। ফিনিশারের ভূমিকায় সে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে। তাই আমার কাছে মনে হয় সে (রিয়াদ) টি-টোয়েন্টি দলে আমাদের অটো চয়েস।’
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে অনেক উন্নতি করেছেন রিয়াদ।’ তার ফিল্ডিং নিয়ে জালাল বলেন, দেখেন বয়সটা বড় ব্যাপার নয়। ইংল্যান্ডের অ্যান্ডারসনও ৪১ বছর বয়সে বল করছে। সে পরিশ্রম করছে আর সেটা ফল পাচ্ছে।
বিসিবির এই কর্মকর্তার কথা অনেকটায় স্পষ্ট যে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে পরিকল্পনায় ভালোভাবেই রয়েছে মাহমুদউল্লাহ। চলমান বিপিএলে এখনো পর্যন্ত ছয় ইনিংসে মাত্র ৭২ বল খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিপরীতে ১০৮ রান করেছেন তিনি। যেখানে ১৫০ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রান ১০৩৮৪, উইকেট ১৬৩ এবং ক্যাচ নিয়েছেন ১৬৫টি। মজার ব্যাপার হলো-রিয়াদের অভিষেকের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ৪১২১ জন ক্রিকেটার। এসময়ে তার চেয়ে রান, উইকেট এবং ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ তিন ক্ষেত্রেই বেশি অবদান নেই একজন ক্রিকেটারেরও।
এদিকে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৫০ টেস্ট খেলে ২৯১৪ রান করেছেন রিয়াদ। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ৩৩.৪৯ গড়ে এবং ৫৩.৪০ স্ট্রাইক রেটে খেলে ১৬টি অর্ধ শতক ও ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে বোলিংয়ে হাত ঘুরিয়ে ৪৩ উইকেটও পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২৯ ম্যাচের ১৯৯ ইনিংসে ৫৩৪৮ রান করেছেন রিয়াদ। যেখানে ৪টি শতক ও ২৮ অর্ধ শতক রয়েছে তার ঝুলিতে। এছাড়া টি-২০তে ১২১ ম্যাচে ২১২২ রান করেছেন। এই সংস্করণে শতকের দেখা না পেলেও ৬টি ফিফটি হাঁকিয়েছেন। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ থেকে অবসর না নিলেও লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত এ ক্রিকেটার।