ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

যেদিন শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়

আশরাফুল ইসলাম আকাশ
প্রকাশিত: ১৫:১১, ১৩ এপ্রিল ২০২৪
যেদিন শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়
ছবি অলংকৃত- ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অসংখ্য স্মৃতির জয় রয়েছে। যার সংখ্যাটা একুশ শতকেই বেশি। সাকিব-তামিম-মুশফিকদের হাত ধরে জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতেছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেই ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে উঠছে টিম টাইগার্স। তবে জানেন কি- টাইগারদের পাপড়ি বিছানো এই পথটা তৈরি হয়েছিল কিভাবে?

লাল-সবুজের দেশে ক্রিকেটের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল আজ থেকে ২৭ বছর আগে, মালয়েশিয়াতে। ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা উঁচিয়ে ধরে বাংলাদেশ। সেদিনের সেই জয়ের সাফল্যই তৈরি করেছে আজকের সাকিব-তামিম-মুশফিকদের।

কুয়ালালামপুরের কিলাত ক্লাব মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে কেনিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ দল। যেখানে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি আকরাম খান।

Advertisement

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড়ায় করায় কেনিয়া। স্টিভ টিকলোর ১৪৭ রানের ওপর ভর করে ২৪১ রানের বড় সংগ্রহ পায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ রফিক।

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এক বিশাল সংবর্ধনা দেয়া হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। ছবি- সংগৃহীততবে কেনিয়ার ব্যাটিংয়ের পরপরেই কিলাত ক্লাবে বৃষ্টি নামে। এতে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬ রানের। ছয় এর উপর রানরেট সেইসময় ছিল বেশ কঠিন। সেই লক্ষ্য তাড়ায় একটা ‘বাজি’ খেলে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইনিংসের সময় ওপেন করতে নামেন মোহাম্মদ রফিক। তার জন্য জায়গা ছাড়তে হয় নিয়মিত ওপেনার আতহার আলীকে। সেই পরিকল্পনায় বেশ সফলও হয় কোচ গর্ডন গ্রিনিজ।

নাইমুর রহমানের সঙ্গে লক্ষ্য তাড়া করতে নামেন রফিক। ইনিংসে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন নাইমুর। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন রফিক। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে ১৫ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়ের পেছনে কোচ গর্ডন গ্রিনিজের ভূমিকা অপরিসীম। ছবি- সংগৃহীতএরপর টপ অর্ডারে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু (২৬), আমিনুল ইসলাম (৩৭) এবং মিডল অর্ডারে অধিনায়ক আকরাম খেলেন ২২ রানের ইনিংস। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন এনামুল হক ও সাইফুলরা।

বৃষ্টি আইনের ম্যাচটিতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালোও ম্যাচ থেকে কখনো ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। কেনিয়া বোলারদের তোপ সামলে লক্ষ্যে ভালোই এগোচ্ছিল টাইগাররা। ধীরে ধীরে জয়ের কাছে পৌঁছে গেলেও শেষ এক বলে প্রয়োজন হয় এক রান। 

তখন স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। অপর প্রান্তে খালেদ মাসুদ পাইলট। মার্টিন সুজির করা শেষ বলটি প্যাডে লাগার পর একটা ঐতিহাসিক দৌড়। সেই রান নিয়ে নিলে উৎসবে মেতে ওঠে পুরো কুয়ালালামপুরসহ গোটা বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের গৌরবে ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস। ছবি- সংগৃহীতকিলাত ক্লাব মাঠের ২২ গজ পেরিয়ে জয়োধ্বনিটা মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাঁচশ সত্তর বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। ১৩ এপ্রিল ১৯৯৭। যুদ্ধ জয়ের পর এ প্রথম কোনো জয় আবারো এক সুতোয় গেঁথেছিল গোটা দেশকে। টাইগারদের প্রথম গর্জনে শুরু হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়।

১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয়ের পরপরই বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে। এরপর ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ও ২০০০ সালে হয় টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি। এ পথে আমূল বদলে যায় দেশের ক্রিকেট কাঠামো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!