৬৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টি-২০তে অভিষেক
ক্রিকেটের ২২ গজে নিয়মিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেকর্ডের দেখা মেলে। তবে সম্প্রতি এমন এক বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে, যা জানলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। যে বয়সে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে অবসর সময় কাটানোর কথা, সে বয়সে ব্যাট-প্যাড হাতে নেমে গেলেন ২২ গজে। আর সেই সঙ্গে হয়ে গেলেন ইতিহাসের সাক্ষী।
সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন জিব্রাল্টার এই ক্রিকেটার। তার নাম স্যালি বার্টন। এর মধ্য দিয়ে আরো একবার প্রমাণিত হলো ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে অবসরের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যিনি যতদিন পারেন, সেরা ফর্মে থাকেন, ততদিন খেলেন।
স্যালি বার্টন পেশায় একজন শিক্ষক। তবে তার নেশা খেলাধুলা করা। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতেন তিনি। গত রোববার (২১ এপ্রিল) এস্তোনিয়ার বিপক্ষে জিব্রাল্টারের হয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামার দিনে স্যালির বয়স ছিল ৬৬ বছর ৩৩৪ দিন।
.png)
এতে স্যালি ভেঙে দেন পর্তুগালের আকবর সৈয়দের গড়া আগের রেকর্ড। আকবর সৈয়দ পর্তুগাল পুরুষ দলের হয়ে ৬৬ বছর ১২ দিন বয়সে ২২ গজ মাতিয়েছিলেন। শুধু ক্রিকেটই নয়, স্যালি ফুটবলও খেলেন। ক্রিকেটে যেমন গ্লোভস হাতে উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালন করেন, তেমনি ফুটবলে গোলরক্ষকের ভূমিকা পালন করেন।
জিব্রাল্টার মেয়েদের ক্লাব জিব্রাল্টার ওয়েভ এফসিতে নিয়মিত খেলেন বার্টন। ২০২১ সালে জিব্রাল্টার ওয়েভ এফসি গঠন হওয়ার পরে সেই দলের হয়ে শুরু থেকেই বিচ সকার, ফুটসাল ও ফুটবল তিন বিভাগেই মাঠে নামেন তিনি। ফুটবলের মাঠে স্ট্রাইকার থেকে ডিফেন্ডার, সব ভূমিকাতেই মাঠে নেমেছেন স্যালি।
স্যালি বার্টনের বিশ্ব রেকর্ডের দিনে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে এস্তোনিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে জিব্রাল্টার। আগে ব্যাট করে জিব্রাল্টার নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে মাত্র ৩০ রানে অলআউট হয়ে যায় এস্তোনিয়া নারী দল।
এদিন স্যালি বার্টনকে ব্যাট হাতে নামতে হয়নি। এমনকি উইকেটের পেছনেও দায়িত্ব পালন করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। কেননা জিব্রাল্টারের বোলাররা যে ৯ উইকেট পেয়েছেন, সবই বোল্ড নয়তো এলবির শিকার হয়েছিলেন। অন্য একটি উইকেটটি এসেছে রানআউট থেকে, যেটি করেছেন জিব্রাল্টারের অন্য এক ফিল্ডার।