ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ - ২০২৪

কেমন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন?

আশরাফুল ইসলাম আকাশ
প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ২৫ জুন ২০২৪
কেমন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন?
কোলাজ- ডেইলি বাংলাদেশ

চলছে টি-২০ বিশ্বকাপ। যেখানে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সুপার এইটের লড়াই। আগামী ২৭ জুন মাঠে গড়াবে সেমিফাইনালের মহারণ। টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট পেয়েছে আফগানিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড।

এবারের আসরে যাচ্ছে-তাই পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ দল। যদিও গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে সুপার এইটে পা রেখেছিল টাইগাররা। তবে সেরা আটে লড়াই জমানো তো দূরের কথা, বাজেভাবে পরাজয় বরণ করেছে তারা। এমন পারফরম্যান্সে ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার মিশনে প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে বসে দলটি। তবুও টাইগারদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ ছিল আসরের শেষ চারে যাওয়ার। এর জন্য প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশ দলের দরকার ছিল একটা মাত্র জয়। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান। লক্ষ্যও ছিল সহজ। কিন্তু বাংলাদেশ দল তো জিততেই পারেনি উল্টো লজ্জার পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুপার এইটে কোনো প্রকার জয় ছাড়া দেশে ফিরতে হচ্ছে টাইগারদের।

Advertisement

চলুন একনজরে দেখে নেয়া যাক এবারের বিশ্বকাপে টাইগার ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স-

শেষ ম্যাচে লিটনের ব্যাটে রান দেখেছে ভক্তরা। ছবি- সংগৃহীতলিটন দাস: বিশ্বকাপে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচেই খেলেছেন তিনি। যেখানে ৯৩.৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১৩৯। অবশ্য আসরের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন তিনি।
 
তানজিদ হাসান তামিম: এবারের বিশ্বকাপে ওপেনার হিসেবে তামিমকে নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখেছিল বাংলাদেশ। এজন্য তাকে নিয়ে মাতামাতিও কম ছিল না। কিন্তু তিন ম্যাচে ডাক মেরেছেন। এক ম্যাচে ৩৫ ও আরেক ম্যাচে ২৯ ছাড়া আর কোনো ম্যাচেই ভালো করতে পারেননি। ৭ ম্যাচে ৯৬.২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন রান মাত্র ৭৬।

নাজমুল হোসেন শান্ত: বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন নাজমুল হোসেন। তার নেতৃত্বেই এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেয় টাইগাররা। তবে অধিনায়ক হিসেবে তার যতটুকু দায়িত্ব নেয়ার কথা, তার কতটুকু তিনি পালন করেছেন তা তার পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। 

বিশ্বকাপে ৭ম্যাচে ৯৫.৭ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ১১২ রান। বাউন্ডারি মেরেছেন ৭টি আর ওভার বাউন্ডারি ৫টি।

সৌম্য সরকার: চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। প্রথম ম্যাচে ডাক মেরেছেন, আফগানদের বিপক্ষে রান করেছেন ১০ বলে ১০। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচে ১২ বল খেলে তার রান ১০।

বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য। ছবি- সংগৃহীত
 সাকিব আল হাসান: এবারের বিশ্বকাপে তো সাকিবকে চেনাই যাচ্ছিল না। ৭ ম্যাচে ১০৬.৭ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন ১১১ রান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অবশ্য ৬৪ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

বল হাতে বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরম্যান্স একেবারেই বেমানান ছিল। ১৭.২ ওভার হাত ঘুরিয়ে খরচ করেছেন মোট ১৩০ রান। বিপরীতে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৩টি।

তাওহীদ হৃদয়: টাইগারদের টপ অর্ডাররা ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন হৃদয়। ৭ ম্যাচে ১২৮.৬ স্ট্রাইক রেটে ১৫৩ রান করেছেন তিনি। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ করেছেন ৪০ রান।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: সব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন রিয়াদ। টি-২০ বিশ্বকাপেও আশার আলো দেখাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন।

বিশ্বকাপ ৭ ম্যাচে ৯৪.১ স্ট্রাইক রেটে রান মাত্র ৯৫। বল হাতেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫০ রান খরচে উইকেট নিয়েছেন মাত্র একটি।

টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি জাকের। ছবি- সংগৃহীতজাকের আলী: এবারের বিশ্বকাপে জাকের আলীকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিল টাইগার ভক্তরা। শেষদিকে ক্যামিও ইনিংস উপহার দিতে পারেন বলেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার ম্যাচে সুযোগ পেয়েও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছেন জাকের। চার ম্যাচে ৭৬.১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন মোটে ৩৫ রান। 

মাহেদী হাসান: এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন মাহেদী হাসান। তবে দুই ম্যাচেই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন এই অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডাক এবং ভারতের বিপক্ষে ৫ রান করেছেন তিনি। আর দুই ম্যাচে ৮ ওভার বোলিং করে খরচ করেছেন ৫০ রান। কিন্তু উইকেটে ঝুলি তার শূন্য।

তানজিম সাকিব: এবারের বিশ্বকাপে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন তানজিম সাকিব। ৭ ম্যাচে বল করেছেন মোট ২৪ ওভার। যেখানে ৬.২১ ইকোনমিতেনিজের ঝুলিতে উইকেট পুরেছেন মোট ১১ টি। যা কি-না বাংলাদেশের হয়ে এক বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
 আশার আলো দেখিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন রিয়াদ। ছবি- সংগৃহীত
তাসকিন আহমেদ: বাংলাদেশের আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। এবারের বিশ্বকাপে দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ৬টি ম্যাচে। ২১.২ ওভার হাত ঘুরিয়ে তার ঝুলিতেও রয়েছে ৮ উইকেট।

রিশাদ হোসেন: নবম টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অর্জন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। আসরের বাংলাদেশের হয়ে সবকটি ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছেন। যার প্রতিদানও দিয়েছেন তিনি। ৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৪ টি; যা কি-না বাংলাদেশের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার রেকর্ড। 

ব্যাট হাতেও ছিলেন মারমুখী। যখনই ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচেই ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছেন এই লেগ স্পিনার। মোট ২৬ বল খেলে রান করেছেন ৪০। তার স্ট্রাইকরেট ১৫৩.৮।   

মুস্তাফিজুর রহমান: এবারের বিশ্বকাপে মোট ২৬ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন মুস্তাফিজ। তার ইকোনমি রেট ৫.৪৬। উইকেট নিয়েছেন ৮ টি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!