অন্যদিকে স্পেনের ক্ষেত্রে শিরোপার আক্ষেপ অবশ্য এক যুগের। ২০১২-এর পর হওয়া ইউরোর দুই আসরে তারা ফাইনালের দর্শক। তারপরও চলতি আসরে জার্মানি-স্পেনকে রাখা হয়েছিল ফেভারিটের তালিকায়।
এবারের ইউরো অভিযান শুরুর আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল ফাইনালের আগেই দেখা হতে পারে দুই ফেভারিটের। গ্রুপ পর্ব আর দ্বিতীয় পর্বের সমীকরণ মিলিয়ে হয়েছে সেটাই।
.png)
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই জায়ান্ট। যার মানে আজ স্টুটগার্ট অ্যারেনায় এক ফেভারিটকে বরণ করতে হবে বিদায়ের পরিণতি।
সেই দলটা যদি হয় স্বাগতিক জার্মানি, তবে আসরের দ্যুতি কমে যাবে অনেকটাই। দলের পাশাপাশি যে জার্মানরা হারাবে তাদের সময়ের অন্যতম সেরা তারকা টনি ক্রুসকেও। এই প্লে-মেকার গত মে মাসেই দিয়ে রেখেছিলেন অবসরের ঘোষণা।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বুধবার বিকেলে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ক্রুস এলেন একরাশ হাসি ছড়িয়ে। সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা ভালো করেই জানেন। আজ নয় তো কাল, আসছে এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যেই তাকে আলিঙ্গন করতে হবে হৃদয়ক্ষয়ী মুহূর্তটাকে। তবে সেটা যেন এই শুক্রবার না হয়।
এদিন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে কি এটাই শেষবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া? এমন প্রশ্নে স্মিত হেসে ক্রুসের জবাব, ‘আমি মোটেই নস্টালজিক হয়ে পড়ছি না। আশা করব না এটাই শেষ ম্যাচ এবং বিশ্বাস করি আবারও আমরা মিলিত হব।’
এদিকে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের তারুণ্যনির্ভর দল আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়েই জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে। শেষ পাঁচটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে এই প্রথম তারা শেষ আটের টিকেট পেয়েছে। এমনকি খোদ জার্মানির জসুয়া কিমিচ স্বীকার করেছে এবারের টুর্নামেন্টে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দল হলো স্পেন।
ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে থাকা স্পেন ১৯৮৮ সালের পর জার্মানির বিপক্ষে শেষ ছয়টি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেনি। ছয়টি ম্যাচের তিনটিতে জয় ও তিনটি ড্র হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে এই দুই দলের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
স্পেনের অবশ্য একটি অভিশপ্ত রেকর্ড রয়েছে। ইউরো কিংবা বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে কখনই তারা স্বাগতিক দেশকে হারাতে পারেনি। ১৯৩৪ সালের পর থেকে এমন নয়টি ম্যাচেই প্রতিটিতেই তারা পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
আজকের ম্যাচে স্প্যানিশ বস ফুয়েন্তে অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৬ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ও অ্যাথলেটিকো বিলবাও নিকো উইলিয়ামস তিন জনের আক্রমনভাগে অধিনায়ক আলভারো মোরাতার সঙ্গী হবে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে পেড্রিকে ছাড়িয়ে ওলমো ও মিকেল মেরিনোর খেলার সম্ভাবনাই বেশী।
তবে মূল একাদশে রড্রি ও ফাবিয়ান রুইজের সাথে পেড্রিও খেলতে পারেন। পায়ের ইনজুরি কাটিয়ে নাচো ফার্নান্দেজের দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তাকে জায়গা দিতে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে লি নরমান্ড অথবা অমারিক লাপোর্তের মধ্যে একজন বদলী বেঞ্চে চলে যাবেন। ফুল-ব্যাক হিসেবে মাঠে নামবেন ডানি কারভাহাল ও মার্ক কুকুরেলা।
অন্যদিকে সেন্টার-ব্যাক জোনাথান টাহ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জার্মান দলে ফিরছেন। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে বাদ পড়েছিলেন লেফট-ব্যাক ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটেলস্টাডে। কিন্তু ডেভিড রমকে ছাড়িয়ে তারই মূল দলে ফেরার সম্ভাবনা বেশী। আক্রমনভাগে লেরয় সানের পরিবর্তে ফ্লোরিয়ান রিটজ ফিরতে পারেন।