বন্যাকবলিতদের উদ্ধার, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে মিলেছে অভূতপূর্ব সাড়া। নানা বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসবের অনেক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের কিছু ছবিসহ নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন তামিম ইকবাল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শনিবার দুপুরে ছবির ক্যাপশনে তামিম লিখেছেন, ‘কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, বাংলাদেশ আপনার কাছে কী? আমি এই ছবিগুলো দেখিয়ে দেবো। কেউ যদি বলেন, কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? এই ছবিগুলো মেলে ধরব। এ রকম আরো অনেক ছবি-ভিডিও গত কয়েক দিনে দেখেছি। অনেক কিছু শুনেছি। এটাই তো আমার দেশ! এমন বাংলাদেশই তো চাই! সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি আর ভালোবাসায় মোড়ানো দেশ। যত বিপর্যয়, তত বন্ধন। যত সংকট, তত সমাধান। যত প্রলয়, তত প্রতিজ্ঞা।’
.png)
এর আগে শুক্রবার দুর্গতদের সহায়তার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট করে সবাইকে বিভেদ ভুলে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তামিম ইকবাল। তিনি লিখেছিলেন, ‘ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালীসহ দেশের আরও অনেক এলাকা বন্যার ভয়াল ছোবলে আক্রান্ত। কঠিন এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্ব দুর্গতদের সহায়তা করার। ব্যক্তিগতভাবে কাকে কার পছন্দ, কাকে অপছন্দ, কার কী মতবাদ, এসব ভাবার সময় এখন নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে মানুষের পাশে থাকার জন্য। ’
‘আমি নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। যে সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে আমার কাছে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মনে হয়েছে, তাদের মাধ্যমে সহায়তা করেছি। সাধ্যমতো আরও করে যাব ইনশাল্লাহ।’
পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার ও সাহায্যে এগিয়ে আসা মানুষদের প্রতি টাইগার ওপেনারের লেখেন,‘মানুষকে উদ্ধার করতে ও নানাভাবে যারা মাঠ পর্যায়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই দেশ অসংখ্য দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এবারও আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করব, সবাইকে নিরাপদ ও ভালো রাখব। ’
বন্যা পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলকে সচেতনতার বার্তা দিয়ে বাঁহাতি ব্যাটার সবশেষে লিখেছেন, আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, বন্যার তাৎক্ষনিক ধাক্কা সামলানোই শেষ কথা নয়। পানি নেমে যাওয়ার পর দুর্গতদের পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে, ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে, বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই দায়িত্ব আমাদের সবার। সবাই মিলেই চেষ্টা করব তাদেরকে আবার সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দেওয়ার জন্য। স্লোগান আমাদের একটিই- মানুষ মানুষের জন্য।’