টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান অভিষিক্ত কামরান গুলামের সেঞ্চুরি (১১৮) ও সাইম আইয়ুবের হাফ সেঞ্চুরিতে (৭৭) ভর করে ৩৬১ রান করে। জবাবে বেন ডাকেটের শতকে (১১৪) ইংল্যান্ড ২৯১ রানে গুটিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা আঘা সালমানের অর্ধশতকে (৬৩) ভর করে ২২১ রানে থামে। ২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ৩৩.৩ ওভারে ১৪৪ রানে থামে সফরকারীরা।
নোমান ও সাজিদ ইংলিশদের ২০ উইকেটের সবগুলো শিকার করেন। ১১ উইকেট ঝুলিতে ভরেন নোমান, বাকি ৯টি সাজিদ। টেস্ট ইতিহাসে এই নিয়ে সপ্তমবারের মতো দুই বোলার মিলে প্রতিপক্ষের সব উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন।
.png)
শুক্রবার ইংল্যান্ড ২ উইকেটে ৩৬ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে। জয়ের জন্য তখনো তাদের দরকার ২৬১ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট। ওলি পোপকে দিনের দ্বিতীয় ওভারে ফেরান সাজিদ। তারপর চলতে থাকে নোমান শো।
স্পিন স্বর্গ উইকেটে সুইপ-রিভার্স সুইপে নির্ভর করে ইংলিশ ব্যাটাররা খেলছিল। বেন স্টোকস এভাবে খেলেই ৩৬ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। ব্রাইডন কার্স ৩ ছক্কায় ২৭ রান করলেও প্রতিপক্ষের স্পিনারদের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আর এগোতে পারেনি ইংলিশরা।
বাঁহাতি স্পিনার নোমান দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৪৬ রানে ৮ উইকেট। সাজিদ ৯৩ রান খরচায় পান ২ উইকেট।
টানা ছয় পরাজয়ের পর টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের মুখ দেকলেন শান মাসুদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২১ সালের পর সাদা পোশাকের ক্রিকেট হোমে জিতল পাকিস্তান। এ জয়ের ফলে দলটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে এক ধাপ উপরে উঠেছে।
৯ দলের মধ্যে অষ্টম অবস্থান রয়েছে শান মাসুদের দল। ৯ খেলায় ৩ জয় ও ৬ পরাজয়ে তাদের পয়েন্ট ২৮। দলটির শতকরা পয়েন্ট ২৫.৯৩ শতাংশ। আবারো তলানিতে নেমে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ খেলায় এক জয় ও ২ ড্রয়ে ২০ পয়েন্ট পেয়েছে। ক্যাবিরীয়দের ঝুলিতে শতকরা ১৮.৫২ পয়েন্ট।
ইংল্যান্ড আগের চতুর্থ স্থানে থাকলেও তাদের শতকরা পয়েন্ট কমেছে। ১৮ ম্যাচে ৯ জয় ও এক ড্রয়ে ইংলিশরা ৯৩ পয়েন্ট পেয়েছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট ৪৩.০৬।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩-২৫ চক্রে শীর্ষস্থানে থাকা ভারতের শতকরা পয়েন্ট ৭৪.২৪ শতাংশ। দশ খেলায় ৮ জয় ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৯৮। আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ১২ ম্যাচে ৮ জয় ও এক ড্রয়ে ঝুলিতে ভরেছে ৯০ পয়েন্ট। অজিদের শতকরা পয়েন্ট ৬২.৫০ শতাংশ।
৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ৬০ পয়েন্টসহ শতকরা ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলংকা আগের তিন নম্বরে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ছয় ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ২৮ পয়েন্টসহ শতকরা ৩৮.৮৯ শতাংশ পয়েন্ট ঝুলিতে ভরেছে।
ছয় নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। দলটি ৮ ম্যাচে ৩ জয়ে ৩৬ পয়েন্ট পেয়েছে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের শতকরা পয়েন্ট ৩৭.৫০ শতাংশ। সাত নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ৮ খেলায় ৩ জয়ে পেয়েছে ৩৩ পয়েন্ট। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের শতকরা পয়েন্ট ৩৪.৩৮ শতাংশ।