রোববার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়িয়ে দেওয়া পাসে বল পান তহুরা। তবে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের ট্যাকেলে বল জালে জড়াতে পারেননি।
খেলার সপ্তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডি বক্সের সামনে থেকে বাঁ দিকে থাকা ঋতুপর্ণা চাকমাকে বল বাড়িয়ে দেন তহুরা। ডি বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে ঋতুপর্ণা নিশানাভেদ করলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
.png)
আট মিনিট পর শিউলি আজমের ক্রসে দারুণ ভারসাম্যে বল নিয়ে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ-পায়ের ভলিতে বল জালে জড়ান তহুরা। এর ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।
১৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গেলেও সফল হননি ভুটানের পেমা চোডেন। ম্যাচের ২৫ মিনিটে পোস্টের সামনে তহুরার বাড়িয়ে দেওয়া বলে শট নেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল বারে লেগে ফেরে।
পরের মিনিটেই অবশ্য আক্ষেপ মেটান সাবিনা। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল কেড়ে নেন মনিকা চাকমা। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে সাবিনার দিকে বল বাড়ান তিনি। ডান পায়ের টোকায় বল জালে পাঠিয়ে দেনবাঘিনীদের অধিনায়ক।
সাবিনা ২৭ মিনিটে আরেকটি গোলের দেখা পেতে পারতেন। মোসাম্মাৎ সাগরিকার বাড়ানো বলে তার দূরপাল্লার শট পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। আট মিনিট পর আবারো তহুরার ঝলক। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের লম্বা পাসে বল নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের উঁচু শটে অনায়াসেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জোড়া গোলের দেখা পান এ ফরোয়ার্ড।
একটু পর সাবিনাও জোড়া গোল পূরণ করেন। ৩৭ মিনিটে পোস্টের সামনে থেকে গোলরক্ষক রূপনার নেয়া কিক পেয়ে যান মাঝমাঠে থাকা অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। এ সময় দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে অনায়াসে ভুটানি গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
৫৪তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি সাবিনার ৩৬তম গোল। পাঁচ গোল হজমের পর ৪১ মিনিটে ডেকি লাজম ভুটানের একটি পরিশোধে সক্ষম হন। বিরতির পর হ্যাটট্রিকের দেখা পান তহুরা। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা সাবিনার কাছ থেকে বল নেন মনিকা। তিনি পোস্টের সামনে থাকা তহুরার দিকে বল ঠেলে দেন। টাইগ্রেস নাম্বার টেন বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন।
শুরুর একাদশ থেকে ৬৪ মিনিটে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনেন হেড কোচ পিটার জেমস বাটলার। সাবিনার জায়গায় স্বপ্না রাণী, সাগরিকার পরিবর্তে শাহেদা আক্তার রিপা ও ঋতুপর্ণার স্থানে খেলতে নামেন সানজিদা আক্তার।
সানজিদার কর্নার কিকে উড়ে আসা বলে মাপা হেডে ৭১ মিনিটে বাংলাদেশের সপ্তম গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। তিন মিনিট পর এই সেন্টার ব্যাকের পরিবর্তে মাঠে নামেন কোহাতি কিসকু। ৭৭ মিনিটে মারিয়া মান্দাকে বেঞ্চে বসিয়ে মাতসুশিমা সুমাইয়াকে নামান কোচ।
খেলার ৮৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেতে পারতো ভুটান। ইয়েশে বিনধার শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর বদলি খেলোয়াড় রিপা ডানপায়ের দূরপাল্লার শট নিলেও তা পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে যায়। ফলে লাল-সবুজের দল অষ্টম গোলের মুখ দেখেনি।
শেষ পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল। একইসঙ্গে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান শিরোপাধারীরা।