বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনের সকালে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকেরা।
দিনের শুরুতে ৩২ রান করা ইকরাম আলি খিলকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন এবাদত হোসেন। এরপর নিজের বোলিংয়ে ঝলক দেখান হাসান মাহমুদ।
পরপর দুই বলে ইসমত আলম ও কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান। প্রথমে ইসমতকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে সুইং করা ডেলিভারিতে কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
হ্যাটট্রিকের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং স্টাম্পে আঘাত হানত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।
এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবে হাসানই বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে এই কীর্তি গড়লেন।
হাসানের এই সাফল্যের পাশাপাশি এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস বড় ধাক্কা খায়। একপর্যায়ে ৮ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে লড়াই করছিল স্বাগতিকেরা। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমত শাহ।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হাসান মাহমুদের এই হ্যাটট্রিক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্টে দেশের পেসারদের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন তিনি।