পর্যটন শিল্পের প্রসারে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এবার অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ পালন করছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রুপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ ।
এবারের প্রতিপাদ্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (অও) যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুপরিকল্পিত পর্যটন শিল্প উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পর্যটন শিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ পর্যটন হবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ‘মানবকল্যাণমূলক’।
তাই এখানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ জরুরী। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরী করে দেওয়া এবং এর সুফল যেন সকল মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ভবিষ্যৎ পর্যটন শিল্পকে আরও চৌকস, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই, দায়িত্বশীল এবং স্থিতিস্থাপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এটি অনস্বীকার্য যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যটনের জন্য অভ‚তপূর্ব সুযোগ নিয়ে আসে। পাশপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আমাদের জন্য নিয়ে আসে। আমাদেরকে সেসকল চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলোর টেকসই উপায়ে সমাধানে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে ডেস্টিনেশন মার্কেটিং, সঠিক পর্যটন ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং স্মার্ট আতিথেয়তা পরিষেবার সৃষ্টির জন্য আমাদের অবশ্যই একটি যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পর্যটন খাতের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) অভ‚তপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পর্যটন গন্তব্যসমূহের বহুমাত্রিক ও বহুভাষিক বিপণন এবং ভার্চুয়াল সহায়তা থেকে শুরু করে ভবিষ্যত বিশ্লেষণ, পর্যটকদের গমনাগমনের ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত আতিথেয়তা পরিষেবা সর্বক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
পাশাপাশি টেকসই পর্যটন উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবদান রাখতে পারে। প্রযুক্তিগত বিপ্লবের এই যুগে উদ্ভাবন, ডিজিটালাইজেশন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তনে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একই সাথে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্মার্ট পর্যটন সমাধান এবং তথ্য-ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে পর্যটকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রাপ্তি, নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে কারণ এদেশে আছে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, ধর্মীয় সৌহার্দ্য এবং উষ্ণ আতিথেয়তা।
এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অবশ্যই আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে পর্যটকরা আমাদের আকর্ষণসমূহ দারুণভাবে উপভোগ করে এবং ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্টকেও শক্তিশালী করে।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে আমাদের সেবার মান আরো উন্নত হবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই পর্যটনে উন্নীত হবে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে যৌক্তিকভাবে এবং একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বাপক) ইতোমধ্যে বেশি কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এ সংস্থা ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ টি উন্নয়ন প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৪৬ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান ৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭-৮ শতাংশে দাঁড়াবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের আজকের এই দিনে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পর্যটন অনুরাগী এবং এতদসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে হবে।
ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্মার্ট, সবুজ, নিরাপদ এবং পর্যটন সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। তবে সকলকে দায়িত্বশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
লেখক : মোঃ জিয়াউল হক হাওলাদার, মহাব্যবস্থাপক
চেয়ারম্যান মহোদয়ের দপ্তর, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন