ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ নারী নক্ষত্র ]
ফ্যাশন ট্রেন্ড

মেয়েরাও তো সাফারি পরে

যুলকারনাইন সবিহ্ সুমন
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেয়েরাও তো সাফারি পরে
সাফারি স্যুটে, বাবার প্রিয় সুগন্ধি শিশিতে, চিরুনিতে, শার্টের কলারের দাগে, স্যাণ্ডো গেঞ্জি শুঁকে বাবার অস্তিত্ব পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মেয়েটি!

সাফারি স্যুটে ক্যামন ব্যাটা ব্যাটা মনে হচ্ছে মেয়েটিকে!
মেয়েরাওতো সাফারি পরে।
পরে না?
বেমানান তো লাগে না!
তবে এমন কেন লাগছে?
স্যুটের শেপের কারণে কি?
না-কি পুরুষালি খাঁকি রঙ?

ওকে বরাবরই সালোয়ার-কামিজে দেখা।
টিনেজ বয়স, খেয়ালি মন, স্টাইল পাল্টাতে চাইছে হয়তোবা!

Advertisement

আমাকে বসতে বলে ঘরের ভেতর পালিয়ে বাঁচে। 
ওর মা আসেন ভেতর থেকে-
মুখে লাজুক হাসি।
বললেন- ' আজ কী-যে হল মেয়েটার, বাবার আলমারি খুলে বসেছে; কী পাগলামো করছে!' 

যা ভেবেছি তাই; এ পোশাক তো ওর হবার নয়।
শখ করে বাবার পোশাকই পরেছে তাহলে!

বাবার স্মৃতি-
মাত্র সাতটা বছর ভাই-বোনের সাথে ভাগাভাগি করে বাবাকে পাওয়া!
তারপর একদিন সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার নিথর দেহ;
স্বজন আর পাড়ার লোকের কাঁধে চড়ে বাবার হারিয়ে যাওয়া চিরতরে।

সাত বছরের শিশুর মনে বাবার অস্বচ্ছ  স্মৃতি; কৈশোরে এসে বাবার জন্য প্রচণ্ড অভাব-হাহাকার কী করে পূরণ হবে এই মামুলী স্মৃতি দিয়ে?
 
সাফারি স্যুটে, বাবার প্রিয় সুগন্ধি শিশিতে, চিরুনিতে, শার্টের কলারের দাগে, স্যাণ্ডো গেঞ্জি শুঁকে বাবার অস্তিত্ব পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মেয়েটি!

মানিব্যাগের খুচরো টাকায়, মা'কে লেখা চিঠিতে, ডায়েরির পাতায় পাতায়, ফটো অ্যালবামে আর তার স্মৃতির মণিকোঠায়- সর্বত্র খুঁজে ফিরছে খণ্ড খণ্ড বাবাকে!

ভেঙ্গে যাওয়া ফ্রেমের কাঁচের মতো একের পর এক টুকরোগুলো  জোড়া দিয়ে একটা পুরো বাবাকে পেতে চায় সে।

একটা পুরো বাবা চাই তার!
যেন একলা পথ চলতে তার আর ভয় না হয়,
আশেপাশের প্রতিদিনের করুণা আর অসুন্দর দৃষ্টিকে মাড়িয়ে চলে যেতে পারে।

পেছন থেকে নিশ্চয়ই সে বাবা সাহস যোগাবে- 'ভয় কিরে মা আমি তো আছি।
আমিই তো আছি।'

তন্নতন্ন করে মেয়েটি বাবাকে খুঁজছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!