প্রিয়তমা, শাড়ির আঁচলে ধাঁধা দিও
ঈশ্বর ও তোমাকে
ক
.png)
ঈশ্বর আর তুমি ভষ্ম করে রেখেছো এই জগত
চোখ দিয়ে খুঁজি হাতের মাটি, হাত দিয়ে খুঁজি সূর্য।
প্রিয়তমা,
শাড়ির আঁচলে ধাঁধা দিও যদি এই কবরস্থানে নিয়ে আসি বর্ষার শুভেচ্ছা
যদি নিয়ে আসি রঙ চায়ের প্লেটে অরণ্যের বয়ানপত্র
যদি নিয়ে আসি বনবাসের সাধ তুমি ঈশ্বরের মতো বিপর্যস্ত করো আমাকে, শরশয্যা দিও।
খ
আগুন দান করো প্রিয়তমা
ফুলের বালিশে মাথা রাখবো সিনেমার প্রেমিকের মতো
জগতের হীরের টুকরো ছেলের মতো বলবো ঘুম পাড়াও
ঈশ্বরের মতো বলবো তথাস্তু!
ফুলের উষ্ণতায় আমাকে পুড়ো, কাজলের হিমে জাগ্রত করো।
গ
আমরা বায়নাপত্র করবো না, রেজিস্ট্রি করবো না
আমাদের সংসারের কাগজপত্রে চৌহিদ্দি থাকবে না।
আমরা হাত ধরবো সন্তানের, একাকার হবো শতো যোগানে
আমরা নিমন্ত্রণ করবো নগর জুড়ে প্রেমের বৃক্ষে গাজীর পালায়।
আমাদের পূর্বপুরুষকে নিয়ে আসবো মাতৃপক্ষে পিতৃপক্ষে ভিটার মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে
আমরা বায়নাপত্র করবো না , আমরা ঈশ্বরীকে একটি শাড়ি দেবো আর ঈশ্বরকে একটি ধুতি
আমাদের পুরোহিত বরণ এটুকুই।
দক্ষিণা?
মুদ্রাস্ফীতিতে আক্রান্ত বাজেট থেকে কি চাহিদা দেবো?
ভাগ্য দান করলে হবে না?
ভিটেয় এগুলোই ব্যক্তিগত সম্পদ এখন।
ছায়ানন্দ
তুমি একলব্য , মন্থিত বিষ কণ্ঠ ভুলে কেটে যেও না তিলের নাড়ুর মতো নিও । তুমি শৈশবেই পীড়া ভোগ শিখেছো। অভিমান আধা পোড়া নাভির মতো গেঁথে রাখো শ্মশানে। তোমার সঙ্গে গুরু নেই , ঈশ্বর নেই।
জোর করে মরে যেও বালক , তুমি পাপে বেঁচে আছো।
ফুলের অশ্রুতে প্রজাপতির আশ্রয় হয়।নদীর অশ্রুতে পাখির আশ্রয় হয় । ভূমির অশ্রুতে মহারথীর আশ্রয় হয়।
তুমি একলব্য তোমার আশ্রয়
এই জড়জগতে নেই অপ্রাকৃত জগতেও নেই
যে কাব্যিক আত্মার ছায়ানন্দ তুমি, সে তোমার আশ্রয়?
আশ্রয় নেই তোমার বালক
তাড়া পাবে হয়তো তাড়াচ্ছে তুমি মূর্খের মতোন তরঙ্গে যোগ হচ্ছো !
অনিবার্য মৃত্যুকেই আশ্রয় করো বালক , আশ্রয়ের অনুভবে তোমার কাব্যিক আত্মাকে বেদীর আরকে অগ্নিফুলে প্রার্থনা করো
তোমার নির্বাসনে অনন্তময়ী কন্যা হোক সে।
কোণ ও বৃত্ত
কখনও একা হই না, জোড় থাকি। পোহাতে-শুকাতে জোড় থাকি সমান চিহ্নের টানের মতো।
কুলহীনতায় একাকিত্ব নেই , গতিহীনতায় নিঃসঙ্গতা নেই -
মানস করি , জিজ্ঞাস করি , সম্ভারে আধার করি ভেতরে ।
কথাবার্তায় আনুগত্য থাকে অন্ধকারও , তমসাকে ধরে রাখি ; বিষাদের ভীষণ বিশ্বাস তাকেই।
রাতে পাওয়ার মতো উচ্চবিত্ত স্বপ্ন নেই , কথা খরচ করে বাহিত হয়ে যাই....
ভোরে আড়তদারি করি কুয়াশায় টলমল কল্পনার শোভায় !
অনুভব আদায়ের তাগিদে একে অপরে হুটহাট বিলম্বতা নেই , বিড়ম্বনা নেই
চুলা জুড়ানো ডেকচিতে বলক উপচে পড়ে না , ফেনার ঢেকুর নেই , মুক্তার মতো সদ্যোজাত শ্রীপুর ।
কালচক্রে দুধ ক্ষুধার মতো কান্না নেই, অজগবি মুসকানি নেই , নড়াটুকু মুক্ত বায়ু ; বূহ্যহীন।
জীবত্মা পরমাত্মায় পরমাত্মীয় জোড়া.....