সত্যজিৎ রায় ক্লাসিক: কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২)
হিমালয়ের চূড়ায় বসে ‘লাবণ্য’ খুঁজে পায় জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব চাপা পড়ে আছে দুঃখ-ভয়-সংকটে! যেন জগতে আপন কেউ নাই! সে আর মুখ বুজে সব সহ্য করে যাবে না। প্রয়োজনে দাম্ভিক-রক্ষণশীল স্বামীর বিরুদ্ধে লড়বে। রক্ষণশীল চিন্তার বেড়াজালে পিষ্ট নিজের জীবনের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না। নিজের মেয়ের ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সে লড়বে। মানব সম্পর্কের এমনতর জটিলতা নিয়েই সত্যজিৎ রায়ের প্রথম মৌলিক চিত্রনাট্যের পর্দারূপ ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’।
হিমালয়কে পশ্চাৎপটে রেখে সত্যজিৎ সম্পর্কের জটিলতার উত্তর খুঁজেছেন। মানব মনের ব্যাখ্যায় কখনো আশ্রয় নিয়েছেন চিত্রে, কখনো প্রতীকী অর্থে বা কখনো রূপকে।
আবহ তৈরিতে চরিত্র বলয়ে দিয়েছেন বিচ্ছিন্নতা, রিক্ত শব্দহীনতা আর অপ্রস্তুত পরিস্থিতি। তার সাথে করে প্রকৃতি এগোয় নিজস্ব পথে– অত্যুজ্জ্বল রৌদ্র থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ তারপর ক্রমবর্ধমান কুয়াশা, কুয়াশায় অস্পষ্ট হয় চারদিক। যেন দার্জিলিংয়ের বিষণ্ণ আবহে বন্দী চরিত্রদের অতৃপ্ত অনুভূতি।
.png)
ছবিটি কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিংয়ে সপরিবারে ছুটি কাটাতে যাওয়া একটু উচ্চবিত্ত বাঙালি পরিবারের গল্প। সত্যজিতের পুরো ছবিতে পাহাড়টি এক প্রতীক। দেখা যায় মাত্র একটিবার ছবির শেষে। তাও দর্শক দেখেন, ছবির কোনও চরিত্রই দেখতে পায় না। শুধু ছবির নয়, চরিত্রগুলোর অন্তর্নিহিত ট্রাজেডিও এই অদেখার মধ্যেই রেখে দেন সত্যজিৎ রায়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রটিতে ভালোলাগার বিষয় ইন্দ্রনাথ রায় চরিত্রে ছবি বিশ্বাসের অনবদ্য অভিনয়। শুরুর মতো ছবির শেষটাও হয় শিশু কণ্ঠে লেপচা ভাষার গানের সুরে সুরে পাহাড়ের দৃশ্য দেখানোর মাধ্যমে।
মৌলিক চিত্রনাট্যের পাশাপাশি এটি সত্যজিৎ রায়ের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্রও বটে।
অভিনয়ে : ছবি বিশ্বাস (ইন্দ্রনাথ রায়), করুণা বন্দ্যোপাধ্যায় (লাবণ্য, স্ত্রী), অনিল চট্টোপাধ্যায় (অনিল, পুত্র), অলকনন্দা রায় (মনিশা), অরুণ মুখার্জী (অশোক), অনুভা গুপ্ত (অনিমা, বড় মেয়ে), সুব্রত সেন (শঙ্কর), পাহাড়ি সান্যাল (জগদীশ), এন বিশ্বনাথন (মিস্টার ব্যানার্জি)।
কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালক : সত্যজিত্ রায়।