ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

দই বিক্রেতা জিয়াউল হকের সততা ও একুশে পদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪১, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
দই বিক্রেতা জিয়াউল হকের সততা ও একুশে পদক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা বটতলা গ্রামের জিয়াউল হক এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গ্রামের অতিসাধারণ মানুষটি সমাজ সেবায় অনন্য অবদানের জন্য মর্যদাপূর্ণ এ পদক পাচ্ছেন। গ্রামের এ সাদাসিধে মানুষটিই শিক্ষার আলো ছড়াতে গড়ে তুলেছেন একটি পাঠাগার।

জিয়াউল হক ১৯৬৯ সালে নিজ বাড়িতেই গড়ে তোলেন সাধারণ পাঠাগার। শুধু পাঠাগারই নয়, নানা প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জিয়াউল হক। সামাজিক কাজে তিন কোটি টাকারও বেশি খচর করেছেন এ সাদামনের মানুষটি।

বেচি দই কিনি বই
সাদাসিধে এ মানুষটি পেশায় দই বিক্রেতা। এক সময় সাইকেলে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে পথে ঘাটে ঘুরে ঘুরে দই বিক্রি করতেন। ৯১ বছর বয়সেও তার রুটিরুজির অবলম্বন দই বিক্রি। জিয়াউল হকের দইয়ের খ্যাতি জেলাজুড়ে। গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে দই বানান। সততার কারণেই ভোক্তাদের মনে জায়গা করে নেয় জিয়াউল হকের দই। অনেকেই দই কেনার জন্য দূরদূরান্ত থেকে তার বাড়িতেও ছুটে যান।

Advertisement

দই বিক্রির সামান্য আয় থেকেই এলাকার হতদরিদ্র তরুণদের পাঠ্যবই কিনে দিতেন জিয়াউল হক। অভাবের কারণে নিজে পড়ালেখা করতে পারেননি। এজন্য গ্রামের কারো পড়ালেখা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই ভাবনা থেকেই পাঠ্যবই কিনে দেওয়া শুরু করেন জিয়াউল হক। বইয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পাঠাগার গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা এলাকার বটতলা গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে গড়ে তোলেন পাঠাগার।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার নামে এ পাঠাগার দিন যত গড়িয়েছি ততই আলোক বর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এ পাঠাগারে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে।

এ বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ভালো কিছু করলে ভালো কিছু পাওয়া যায়। আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে- এটা জানান পর থেকে মন থেকে আনন্দিত হয়েছি। একুশে পদকের মতো এত বড় সম্মান পেয়ে আমি সত্যিই খুবই খুশি হয়েছি।

পদকের অর্থ কী করবেন এ প্রশ্নের উত্তরে জানান, পাঠাগারে জায়গার সংকুলান হয় না। আরো একটি ঘর করতে পারলে ভালো হয়। এজন্য পদকের অর্থ দিয়ে পাঠাগারের আরো একটি ঘর বানাবো।

ব্যক্তি জীবন
মরহুম তৈয়ব আলী ও শরীফুন নেসা দম্পতির ছেলে জিয়াউল হকের জন্ম ১৯৩৮ সালে। ব্যক্তিগত জীবনে তার দুই স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রী সারাবান তহুরার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা হককে নিয়ে বটতলা গ্রামে বসবাস করছেন।

আনন্দের বন্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জে
একুশের পদকের জন্য সাদামনের মানুষ মনোনীত হওয়ায় আনন্দের বন্য বয়ে যাচ্ছে তার নিজ উপজেলা ভোলাহাটসহ গোটা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার ছবি পোস্ট দিয়ে জানাচ্ছেন অভিনন্দন। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই ফুল দিয়ে যাচ্ছেন জিয়াউল হকের বাড়িতে।

বুধবার তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটস। জেলা স্কাউট সম্পাদক গোলাম রশিদ জানান, সাদামনের মানুষ জিয়াউল হকের একুশে পদকের জন্য মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। তার এ সম্মানের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামটাও উজ্জ্বল হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!