“জ্যা ত্যারু ঘটনাচক্রের কয়েক সপ্তাহ পূর্বে সে ওরানে এসেছিল এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের একটা বড় হোটেলে উঠেছিল। আপাতভাবে কোনরূপ ব্যবসার সাথে সে জড়িত না থাকলেও শহরের প্রায় সবার সঙ্গেই সে দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠছিল। অবশ্য শহরের কেউই জানতে পারেনি সে কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে ওরানে এসেছিল। প্রায়ই তাকে জনাকীর্ণ শহরের ভিড়ে ঘুরতে দেখা যেত। বসন্তকালের শুরুতে তাকে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছিল বেলাভূমিতে। সৈকতের জলে সাঁতার কাটতে।
ত্যারু ছিল রসিক প্রকৃতির। সারাক্ষণ তার মুখে হাসি লেগে থাকত। স্বাভাবিক আনন্দের বিষয়গুলো তাকে নেশাতুর করলেও কখনোই তাকে দাসে পরিণত করতে পারেনি। তাকে প্রায়ই দেখা যেত শহরে বসবাসরত স্পেনীয় ডান্সার ও মিউজিসিয়ানদের সাথে চলাফেরা করতে, এই শহরে যাদের সংখ্যা ছিল যথেষ্টই।
.png)
জ্যা ত্যারুর নোটবইটি ছিল বৈচিত্রময়। সেটা জীবনের অদ্ভুত সব ঘটনাবলীর বর্ণনায় পরিপূর্ণ ছিল। অবশ্য কোন ঘটনারই বিস্তারিত বর্ণনা ছিল না তাতে। সব বর্ণনাই ছিল সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এই বর্ণনাগুলো হতে আমরা তার একটা বিচিত্র স্বভাব সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম- চারপাশের মানুষজন ও ঘটনাপ্রবাহকে অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে পর্যবেক্ষন করা। অনেকটা দূরবীনের উল্টোপ্রান্ত দিয়ে দেখার মতো।
দুর্যোগের দিনগুলোতে সে যেসব ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করেছিল, সেগুলো সাধারণত ঐতিহাসিকগণ এড়িয়ে যান। প্রাথমিকভাবে এই তার অদ্ভুত ঔৎসুক্য ও খেয়ালীপনাকে আমাদের কাছে যথাযথ অনুভূতির অভাব বলে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে যে, নোটবইটি খামাখাই অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে ভরে রেখেছিল সে। কিন্তু আসলে সেখানে বর্ণিত ঐ সময়কার আপাততুচ্ছ বিষয়গুলো অগুরুত্বপূর্ণ ছিল না। অন্তত এই তথ্যগুলোর খাপছাড়া বৈশিষ্ট পাঠকদেরকে দ্রুত কোন উপসংহারে পৌঁছতে বাধা দিত।”
অনুবাদকৃত 'প্লেগ' পাওয়া যাচ্ছে এবারের বইমেলার 'ঘাসফুল' প্রকাশনীতে। স্টল নম্বর -১৪৭-১৪৮।