অমর প্রেমের ঘ্রাণ
আমিও তো নরম চামড়ার
একটা মাটির মানুষ।
আবেগ অনুভূতিতে ঠাসা
একটা জীবন্ত মানুষ।
আমারও তো ইচ্ছে করে
দুরন্ত প্রেমের জন্য
পাগলপারা হই আমি
তোমাদেরই মতো।
আমারও তো ইচ্ছে করে
পূর্ণ হৃদয় উজাড় করে
সন্তর্পনে ভালোবাসি তাকে
তোমাদেরই মতো।
আমারও তো ইচ্ছে করে
অবাধ উচ্ছ্বাসের তোড়ে
আনন্দ-ডানায় ভর করে
বুভুক্ষু বুকে টানি তাকে
তোমাদেরই মতো।
কিন্তু ভালোবাসা নামক
অমানিশার ধোঁয়াশা
আমার চোরা-ভীতিটাকে যেন
তরতর করে বাড়িয়ে চলে
নিবিড় সঙ্গোপনে,
আমার সংশয় ভীতিটাকে যেন
কাঁপিয়ে দিয়ে নাড়িয়ে যায়
অযথা অকারণে।
হায়রে সোনালী ভালোবাসা!
হায়রে বিরহী প্রেম!
আর কতকাল জ্বলে পুড়ে
হবো আমি হেম।
আর কবে সে আমার হবে
নিখাঁদ হয়ে বুকে জড়াবে
শুদ্ধ প্রেমের জগৎ জুড়ে
অমর প্রেমের ঘ্রাণ বিলাবে।
বেনামী চরিত
.png)
রং বেরংয়ের
দালান কোঠার
অন্তরালে
গল্পের পেটে
গল্প জন্ম নেওয়া
এই শহরে
পলেস্তারার ভাঁজে ভাঁজে,
দেয়াল-ঘেরা কোঠায় কোঠায়
থরে বেথরে লেপ্টে থাকে
হাজারো কেচ্ছার নিদারুণ গল্প।
হয়তো ওসব মূর্ত কিংবা বিমূর্ত গল্পের
আমিও এক বেনামী চরিত, হয়তো বা তুমিও।
পারিনি হতে জুদা
একটা সময় আমরা ছিলাম
একে অপরে আকুল হয়ে বাঁধা
যেন একই অন্তরের মাঝে
দুটি অন্তর আধা-আধা,
অথচ নিজের ভুলে হুদা-হুদা
মেটাতে গিয়ে প্রেম-তৃষ্ণার ক্ষুধা
তোমা হতে আমি আজও
পারিনি তো হতে জুদা।
বৃষ্টিতেও সহস্রাব্দের খরা
ছুঁয়ে যায়, আজো আমায়
তুমিহীন বৃষ্টি, অঝরে।
তবুও তো ভিজি আমি,
বিষাদের নিরানন্দে, অকাতরে
বৃষ্টি তার অমোঘ নিয়মে
হিম হয়ে ঝরে, মাটির ধরায়
শীতল করে বিষাক্ত দেহ
আছড়ে পড়ে মনের ডেরায়
আমাদের বিদেহী মনেরও
একটা নিরাকার কল্পদেহ আছে
অথচ আমার সেইখানটাতে
এক ফোঁটা বৃষ্টির জলও পৌঁছে না।
নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হওয়া
নিরস কর্কশ এতিম হওয়া মনটা
দুখের তপ্তখরায় কাতড়ানো
উষ্ণ লাভার মতো আমার ভেতরটা
কাঙ্খিত বৃষ্টিতে কস্মিনকালেও ভিজে না।
এ যেন বানভাসি বৃষ্টিতেও
সহস্রাব্দের খরা।