ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিল্প ও সাহিত্য ]

ঘুম কীর্তন

আফসানা আক্তার
প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ঘুম কীর্তন
ছিহ্! তুমি ঘুমাও, পাখি।  তোমার শিওরে বসে আমি আইজ দোয়া-দরুদ পড়ি। তুমি সেরে ওঠো।

এখন ম্যালা রাইত।
চারিপাশে আশ্বিনা কুয়াশা, হালকা বাতাস।
 আবদ্ধ ঘরে লোডশেডিং আর বেজায় গরম। 
আমার হাসফাস লাগে। 

কী এক মসিবত!
এই সামান্য গরম আর অস্থিরতাতেও তোমারে মনে পড়ে। 
সারাদিনের ক্লান্ত দেহ, বিষণ্ণ মন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হৃদয় আর অসুস্থতা নিয়ে আজ তুমি চট-জলদি ঘুমাই গ্যাছো।

ঘুমাইলে তোমারে নিষ্পাপ শিশুর মতোন লাগে। 
আদরে আদরে জড়াই তোমারে মোরে।

তোমার নিশ্বাসের শব্দে আমার হৃৎস্পন্দন বাড়ে।
তুমি জোরে নিঃশ্বাস নাও, প্রেম। 
তোমার ওমন স্থিরতায় আমার হৃদয়ে শঙ্কা বাড়ে।

তোমারে রাত-বিরাতে আমার বিষম শুনতে ইচ্ছে হয়। আরও ইচ্ছে হয়— গালে মেখে দিই চুমো।

চাঁদ, তারার গান।
তোমাকে শোনাই ঠাকুমার ঝুলি
পাখির কলতান।

ছিহ্! তুমি ঘুমাও, পাখি। 
তোমার শিওরে বসে আমি আইজ দোয়া-দরুদ পড়ি।
তুমি সেরে ওঠো। 

তুমি সেরে উঠলে আমরা সেরে যাই— আমাদের ঘর, সংসার, বই, কবিতা, হড়বড়—এখনো সব গোছানো বাকি।

তোমাকে ভালোবাসার দায়,
আমি আজীবন বয়ে নিতে চাই।

আশ্বিনা রাতের নির্ঘুম কথা— 
তুমি ছাড়া বলো, কারেই বা শুধাই?

তুমি রাগ করোনা পাখি, তোমাকে দেখে দেখে, আমিও ঘুমাবো।
ফজরে ডেকে দিও কিন্তু তাড়াতাড়ি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!