ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজনীতি ]

১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে যাচ্ছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৩, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে যাচ্ছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে আসছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক যথাক্রমে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা এরইমধ্যে সিলেট এসে পৌঁছেছেন। আশা করি বিকেল ৩টার মধ্যে হবিগঞ্জে এসে পৌঁছাবেন। 

তিনি আরও বলেন, গতকাল মঙ্গলবার শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির মুখ্যসমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীদের ওপর  ছাত্রদল দফায় দফায় হামলা চালায় প্রশাসনের সামানে। এরই প্রতিবাদে আমরা আজ বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। হবিগঞ্জে আমাদের কর্মসূচি বাতিল করতে বিএনপি ছাত্রদল একই স্থানে কর্মসূচি আহ্বান করেছে। যেহেতু আমাদের ওপর হামলা হয়েছে তাই কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করতে হবিগঞ্জের কর্মসূচি পালন করবেন।

Advertisement

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে সেহেতু সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

এনসিপি সদর উপজেলা ও  পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল আজ বুধবার একইস্থানে একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করায় অনিদিষ্টকালের জন্য ১৪৪ জারি জেলা প্রশাসন। হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়ি বহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের বহনকারী ও মিডিয়া সেলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের সরিয়ে দিলে তাদের গাড়িবহর আবারও রওনা দেয়। কিন্তু কোর্ট মসজিদ এলাকায় আসলে আবারও হামলার মুখে পড়েন তারা। এ সময় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর গাড়ি চলে গেলেও আটকা পড়েন সারজিস আলম। 

এ খবর স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছলে তারা এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া । এ সময় সারজিস আলম একটি হোটেলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে আহতদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়। এ সময় আবারও শুরু হয় দুপক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। 

একপর্যায়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেকসহ কয়েকজন সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে এসে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় এক ঘণ্টার পর রাত ৮ টার দিকে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজ নিয়ে আসে। এরপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় সারজিস আলম ও  নাহিদ উদ্দিন তারেক গাড়িবহর  ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: হবিগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!