অনুষ্ঠান সূচিতে নাম থাকা সংগঠনগুলো অংশ না নেয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ফলে বাধ্য হয়েই একমাত্র শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দিয়েই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয় আয়োজকদের।
সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
.png)
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি বিভাগের প্রশিক্ষক ফরিদা আক্তার চৌধুরী কুমকুম।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘বর্ষায় নজরুল’অনুষ্ঠানটি চলে। কিন্তু দর্শনাথী ছিলেন সামান্য। যার ফলে মিলনায়তনের অধিকাংশ সিট ফাঁকা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন অভিভাবক বলেন, জাতীয় কবির একটি অনুষ্ঠানে হলে রুমে সিট ফাঁকা থাকা মানে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। তারা আরও শিল্পকলা থেকে প্রচারের জন্য কোনো ব্যবস্থা না নেয়া আসনগুলো খালি রয়েছে। তারা মুলত দায়সারা অনুষ্ঠান করে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা যায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত সম্প্রতি আবারও হবিগঞ্জে যোগদান করেন। এরপর থেকেই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করেই নিজের ইচ্ছামত অনুষ্ঠান সাজিয়ে করছেন।
সূত্রটি আরও জানায়, অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিল্পীদের নামমাত্র সম্মানী দেন। ফলে অনেক সংগঠন সরকারি কোন অনুষ্ঠানে আসতে চায় না।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী দলীয় সংগীতেজেলা শিল্পকলা একাডেমি সংগীত বিভাগ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), হবিগঞ্জ সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হবিগঞ্জ সাংস্কৃতিক পরিষদ, হবিগঞ্জ বিহঙ্গ সংগীত নিকেতন, হবিগঞ্জ শিল্পী সংস্থা সুরসায়র সংগীত বিদ্যায়তন, হবিগঞ্জ সারগাম সেমি-ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমি, তারুণ্য মিউজিক্যাল একাডেমি, হবিগঞ্জ সুরধারা শিল্পী সংস্থা। দলীয় নৃত্যে- জেলা শিল্পকলা একাডেমি নৃত্য বিভাগ, নৃত্য নিকেতন, নৃত্যকুড়ি, নৃত্যভূমি ও সৃষ্টি সাংস্কৃতিক সংঘ।
দলীয় আবৃত্তিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি আবৃত্তি বিভাগ, হবিগঞ্জ শিল্পী সমাজ ও চারুকণ্ঠ শিল্পাঙ্গন অংশ গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো সংগঠনের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে না আসায় শুধু শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের দিয়ে চলে অনুষ্ঠান।
এছাড়াও নিধারিত যন্ত্রশিল্পী আহমেদ নুর আলম (কিবোর্ড), সুবীর কান্তি রায় (তবলা) ইয়াছিন খান (অক্টোপ্যাড) না আসায় অন্য যন্ত্রশিল্পী এনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।
শিল্পী সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী পাপলু বলেন, একটি অনুষ্ঠানে নৃত্য বা আবৃত্তি দল নিয়ে উপস্থিত হতে হলে কমপক্ষে এক সপ্তাহ রির্হাসেল করতে হয়। এজন্য তাদেরকে নাস্তা ও গাড়ি ভাড়া প্রদান করতে হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানে যে পরিমাণ সম্মানী প্রদান করা হয় তার চেয়ে খরচ কয়েকগুণ বেশি হয়।
তিনি আরও বলেন, কলাকুশলীদের অভিভাবকদের অভিযোগ আমরা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করার জন্য হাজার হাজার টাকা পাচ্ছি কিন্তু তাদেরকে দেই না। অথচ বাস্তবে যৎসামান্য সম্মানী দেয়া হয়। যেটা দিয়ে ঠিকমত গাড়ীভাড়া দেয়া সম্ভব হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বলেন, রোববার রাতে জেলা জাসাসের এক শীর্ষ নেতা ফোন দিয়ে বলেন, আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামীকালের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করব না। যেহেতু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাবে তাই আমার সংগঠন যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমি শিল্পকলার একজন প্রশিক্ষক হিসেবে অনুষ্ঠানে গিয়েছি। শিল্পকলার শিক্ষার্থীরা ছাড়া কোনো সংগঠনের শিল্পীরা আসেনি।
ফোক যুবরাজখ্যাত কন্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিক বলেন, শিল্পকলা একডেমি সব সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা জেলা কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অনুষ্ঠান বর্জন করেছে এটা আমিও শুনেছি। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা কালচারাল অফিসার কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। তাকেই এর জবাব দিতে হবে।
হবিগঞ্জ শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।