ক্ষুদে পাঠকে মুখর গ্রন্থমেলার শিশু প্রহর
শিশু-কিশোরদের অবাধ অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার শিশু প্রহর। ছুটির দিন হওয়াতে দিনের শুরুতে পরিবারের ছোট সদস্যরা বাবা কিংবা মায়ের হাত ধরে মেলাতে এসেছে। কেউ বই কিনতে, কেউবা এসেছে টেলিভিশনে দেখা সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্রগুলোকে এক ঝলক দেখতে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় খোলে মেলার দুয়ার। দুয়ার খোলা মাত্রই ছোট শিশু-কিশোরে মেলা মুখর হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী দিনেই মেলা ফিরে পায় চিরচেনা প্রাণ। এরপরই শিশুচত্বরে একে একে হাজির হয় সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্র টুকটুকি, হালুম, শিকু, ইকরি। বেজে ওঠে ‘চলছে গাড়ি সিসিমপুরে, চলছে গাড়ি সিসিমপুরে।’
মার সঙ্গে উইলস লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া তন্বীর সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের। তন্বী বলেন, গত বছরের মেলাতে সিসিমপুরের বন্ধুদের দেখেছি। তাছাড়া টেলিভিশনে সিসিমপুরের শো মিস করি না। তবে সরাসরি দেখার আনন্দ পেতে এখানে এসেছি। খুব কাছ থেকে দেখে ভীষণ ভালো লাগছে।
.png)
শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানা বলেন, আমার সিসিমপুরের টুকটুকিকে ভীষণ ভালো লাগে। ওকে একটু দেখার জন্য আসা। তাছাড়া আমার কিছু গল্পের বই কেনারও ইচ্ছে আছে। দুটো কিনেছি, আরো কেনার ইচ্ছে আছে।
এদিকে সিসিমপুরের বন্ধুদের কাছাকাছি বসতে না পেরে মন খারাপ তৃতীয় শ্রেণির মালিহার। মালিহা বলেন, আমি সিসিমপুরের বন্ধুদের অনেক দূর থেকে দেখতে পেয়েছি। অনেক মানুষ তো, এজন্যই ভালো করে দেখতে পাইনি। পরের শো তে অনেক কাছ থেকে বসে দেখেই বাসা ফিরবো। বাবাকে বলেছি, বাবা রাজি হয়েছে।
মালিহার বাবা আশরাফুল আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি বলেন, বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। অনেক কষ্টের অর্জিত ফসল বাংলা ভাষা। বাচ্চারা এটি ধারণ করতে বাংলা ভাষাকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। এজন্য এই বইমেলার বিকল্প নেই। আজকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি, সামনের দিনগুলোতে, বিশেষত ছুটির দিন বইমেলাতে নিয়মিত আসার ইচ্ছে আছে।
এদিকে উপস্থিতি বাড়ায় হাসিমুখ প্রকাশক ও বিক্রেতাদের। ১২৩ সিসিমপুর স্টলের বিক্রয়কর্মী মনজুরুল আলম বুলবুল বলেন, আজকের শিশু প্রহর হওয়াতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণও বেশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে। এবার মেলাতে ১৭টি নতুন বই এসেছে। আমাদের বইগুলো বরাবরই শিশু-কিশোরদের পছন্দের শীর্ষে থাকে, আশা করি এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না।
উল্লেখ্য, অমর একুশে বইমেলায় সপ্তাহে দুইদিন শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়কে শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে বাংলা একাডেমি। এছাড়া মাসব্যাপী বইমেলায় প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা, বিকেল সাড়ে ৩টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনটি করে শো করবে সিসিমপুর।