ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

ছুটির দিন শেষে ছন্দপতন বইমেলা

আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি
প্রকাশিত: ২১:৫০, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ছুটির দিন শেষে ছন্দপতন বইমেলা
অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেলার উদ্বোধনের পর দু-দিন ছুটির দিন হওয়াতে পাঠক-দর্শনার্থীতে উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতন। এবার ছুটির দিন শেষে পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমেছে। সঙ্গে বিক্রিতে গত দুইদিনের চেয়ে বিক্রিতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় মেলা শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। উপস্থিতি কম থাকলেও, এসেছেন, ঘুরছেন অনেকে। এর মধ্যেই বই কিনেছেন অনেক বইপ্রেমী। ছন্দপতন হলেও আশার বুক বেঁধেছেন বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকরা।

শোভা প্রকাশের বিক্রয়কর্মী লিয়াকত জামিল বলেন, বইমেলার প্রথম দুই ছুটির দিনে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। পাঠক যেমন থাকেন, তেমনি দর্শনার্থীদেরও ভিড় ছিল অনেক। রোববার দুই দিনের তুলনায় বিক্রি সেই অর্থে কম। তবে একটা বিষয় কি, মেলার একটা চিরায়ত স্বভাব— মেলা যত সামনের দিকে এগোয়, বিক্রিও বাড়ে পাঠক-দর্শনার্থী সমাগমও অনেক বেড়ে যায়।

Advertisement

এদিকে নন্দিতা প্রকাশনীর কর্ণধার সন্ধ্যা ব্যাপারী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সবে তো চারদিন হলো! এখন কম বিক্রি হবে, এটাই স্বাভাবিক। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়াতে সাধারণ রোববারে কমই উপস্থিতি থাকে। তাছাড়া এখনো নতুন বই আসছে। নতুন ও জনপ্রিয় লেখকদের বই যত বেশি আসবে, পাঠকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, মেলার শুরুতে পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থী বেশি থাকে। কারণ যিনি বইপ্রেমী তিনি শেষের দিনগুলোতে বেশি আসেন এবং পছন্দের তালিকায় থাকা বইগুলো কেনার জন্য সেইসব দিনই নির্ধারণ করেন। তাছাড়া বাকি দিনগুলোতে যে পাঠকরা যে আসেন না, সেটি বলা বোধহয় একেবারেই সমীচীন হবে না।

বাসাবো থেকে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গে মেয়ে নাকিবা। জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হয় শোভা প্রকাশের স্টলে। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মেয়ের জন্য ইংরেজি শেখার একটি বই কেনা হয়েছে। আরো কিছু কেনার ইচ্ছে রয়েছে, ঘুরে দেখছি পছন্দ হলে কিনব।

ছুটির দিনে না এসে আজকে কেন আসা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত শনিবার আসার কথা ছিল মেয়েকে নিয়ে। কিন্তু, ব্যস্ততা থাকায় আসা হয়নি। তার আবদার পূরণের জন্য আজ আসা। 

এদিকে মেলার বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণ: কাঙাল হরিনাথ মজুমদার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তপন মজুমদার। প্রাবন্ধিক বলেন, বাউল সংগীতকে সামাজিক জীবনধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মানসে ঊনবিংশ শতকে যে কয়েকজন সাহিত্যসাধক নিজেদের সাহিত্য সম্পাদকে নিয়োজিত করেছিলেন কাঙাল হরিনাথ তাদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃৎ। কাঙাল হরিনাথ হিরণ্ময় প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। কাঙাল হরিনাথের জীবন-দর্শন, অধ্যাত্ম ভাবনা ও মরমি মানসের পরিচয় পাওয়া যায় তার বাউল সংগীতের মধ্যে। এই বাউল সংগীতের কথা ও সুর এবং সহজ-সরল প্রাণস্পর্শী ভাব কী শিক্ষিত আর কী নিরক্ষর, সবাই মুগ্ধ করে।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাফর ওয়াজেদ এবং আমিনুর রহমান সুলতান। আলোচকবৃন্দ বলেন, রুচিশীল ও শিল্পবোধ-সম্পন্ন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন সৌন্দর্যের পূজারি। আমাদের আবহমান বাংলার লোক-ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন তিনি। সংবাদপত্র ও সাহিত্যকে তিনি শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি যেমন বাউল গানে আধ্যাত্মবাদের কথা বলেছেন, তেমনি সমাজ-সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।

সভাপতির বক্তব্যে মুনতাসীর মামুন বলেন, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একইসঙ্গে বিদ্রোহী এবং অধ্যাত্মবাদী। তার কর্মের ব্যাপ্তি ছিল অনেক দূর-বিস্তৃত। সৃজনশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি প্রান্তিক অবস্থানে থেকেও সমাজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আলোচনার শুরুতে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এছাড়া ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন চলচ্চিত্রকার ও লেখক তানভীর মোকাম্মেল, শিশুসাহিত্যিক বেণীমাধব সরকার, গবেষক কাজল রশীদ শাহীন এবং কবি ফারুক আহমেদ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি আনিসুল হক, ফারুক মাহমুদ এবং ঝরনা রহমান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ এবং নায়লা তারান্নুম চৌধুরী। এছাড়া ছিল অনুপম বিশ্বাসের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বেসিক একাডেমি অফ ইয়োগিক অ্যাকুইস্টিক ট্রেডিশনাল ইন্সট্রুমেন্ট’ এবং মো. সাজেদুল ইসলাম ফাতেমীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নকশিকাঁথা’র সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!