ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

কর্মদিবসেও জমজমাট বইমেলা

আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি
প্রকাশিত: ২১:১৫, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
কর্মদিবসেও জমজমাট বইমেলা
বই বিক্রি নিয়েও বেশ সন্তুষ্ট স্টল-প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বইমেলার সপ্তম দিনেও পাঠক-দর্শনার্থীতে মুখর ছিল অমর একুশে বইমেলার প্রাঙ্গণ। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জুড়ে বেশ ভালো লোকসমাগম ছিল। এদিকে মেলা নিয়ে আশাবাদী প্রকাশকরা। অন্যদিকে বই বিক্রি নিয়েও বেশ সন্তুষ্ট স্টল-প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মীরা।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৪টার পরপর একাডেমি ও উদ্যান প্রাঙ্গণ জুড়ে পাঠক-দর্শনার্থীতে পদচারণা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে মেলা। বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকের ধারণা মেট্রোরেলের কারণে এবারের মেলাতে বেশ ভালো উপস্থিতি।

পাঞ্জেরি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী শারাফাত লস্কর বলেন, এবারের মেলা বেশ ভালো হচ্ছে। বিক্রিও ভালো। তাছাড়া স্টলে নতুন-পুরাতন বই রয়েছে। বেশ সাড়া পাচ্ছি। বলতে পারেন, আমাদের বিক্রি কমছে না, বরং বাড়ছে। 

Advertisement

এক বছর পর মেলাতে অংশ নিয়েছে আদর্শ প্রকাশনী। তারপরে তাদের পাঠকপ্রিয়তা কমেনি বারং বেড়েছে বলে দাবি করেন প্রকাশনীটির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের দায়িত্বে থাকা আদনান হোসেন রাফসান। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা একবছর না আসতে পারলেও আমাদের জনপ্রিয়তা কমেনি বরং বেড়েছে। তাছাড়া আমাদের বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। সামনে নতুন বইগুলো এলেই হয়ত আমাদের স্টলে সমাগম আরো বৃদ্ধি পাবে।

স্টলে নতুন-পুরাতন বই রয়েছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, কর্মদিবস হওয়ার পরেও আজকেও বেশ লোকসমাগম হয়েছে। পাঠক-দর্শনার্থীরা আসছেন, মেলা ঘুরে দেখছেন। এবার আমাদের ৪০টির মতো নতুন বই আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

নন্দিতা প্রকাশনীর প্রকাশক সন্ধ্যা ব্যাপারী বলেন, মেট্রোরেলের কারণে মেলায় সমাগম বেশ ভালো। দিনদিন এটি আরো বাড়বে। হয়ত এবার লেখক-প্রকাশক অনেকদিন পর একটি ভালো মেলা পেতে যাচ্ছে।

এদিকে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: গোবিন্দ চন্দ্র দেব শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক প্রদীপ কুমার রায়। প্রাবন্ধিক প্রদীপ কুমার বলেন, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব নানা অভিধায় অভিহিত ছিলেন। তিনি একদিকে ছিলেন অনন্য চিন্তক, দর্শনের অধ্যাপক, সর্বজনীন প্রেম ও প্রজ্ঞার এক বিরল ব্যক্তিত্ব, সর্বোপরি একজন উঁচু স্তরের মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ। তার চিন্তার পরিসর ছিল সর্বব্যাপী, তা ছিল মানবতা ও বিশ্বপ্রেম-রসে জারিত। তার দর্শনচিন্তা তত্ত্বের কঠোর আবরণ থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাবহারিক জীবনে উদ্ভাসিত, প্রেম-রসে নিমজ্জিত যাতে অবগাহন করা যায় স্বচ্ছন্দে, নির্দ্বিধায়।

মেলা নিয়ে আশাবাদী প্রকাশকরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জয়দুল হোসেন এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। আলোচকবৃন্দ বলেন, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ছিলেন বিরল প্রতিভার অধিকারী মানবতাবাদী একজন দার্শনিক। তিনি সারা জীবন সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারের কথাই ভেবেছেন। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বধর্ম সমন্বয়ী সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত গোবিন্দ চন্দ্র দেব মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন স্মরণীয় বাঙালি। যুক্তি, বুদ্ধি, বিবেক ও গভীর দার্শনিক দৃষ্টি দিয়ে জীবন ও জগতকে প্রত্যক্ষণ করেছেন তিনি। তার জীবন, কর্ম ও দর্শন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

এদিকে লেখক বলছি, অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ইসহাক খান, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মিল্টন বিশ্বাস, শিশুসাহিত্যিক সারওয়ার-উল ইসলাম এবং কবি মেঘ অদিতি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি বিমল গুহ, শিহাব সরকার এবং টোকন ঠাকুর। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত, কাজী মাহতাব সুমন এবং অনন্যা লাবণী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। এছাড়াও ছিল নূরননবী শান্তর পরিচালনায় 'ভাবনগর ফাউন্ডেশন' পরিবেশিত চর্যাপদের গান এবং মো. সাকিবুল ইসলামের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন 'মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি একাডেমী'র পরিবেশনা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!