বইমেলায় ভিড়, পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থী বেশি
চলছে অমর একুশে বইমেলা। মেলার উদ্বোধনী পর থেকেই মেলায় লোকসমাগম ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে বিক্রয়কর্মীদের দাবি লোক সমাগম অনেক বেশি মনে হলেও পাঠক অনেক কম, ছবি তোলার পাঠক অনেক বেশি।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মেলার দুয়ার খুললে, শিশু প্রহর থাকাতে শিশুদের পদচারণয় মুখর ছিল বইমেলা। বেলা ৩টার পরপর নানা বয়সী মানুষের বেশ সমাগম লক্ষ করা যায়।
মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টল। স্টলটির দায়িত্বরত জোছনা আক্তার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে তবে আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। তবে লোকসমাগম ভালো হচ্ছে, আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো বিক্রি হবে।
.png)
এদিকে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের শারাফাত বলেন, উপস্থিতির তুলনায় পাঠক কম হচ্ছে এটি ঠিক। তবে তারপরও আমাদের বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। তাছাড়া মেলার একটি বিষয় রয়েছে দিন যত এগোয় বিক্রিও তত বাড়ে। আমরা আশাবাদী সামনে এই বিক্রি অনেক বেশি হবে।
বই বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট ময়ূরপঙ্খি প্রকাশনীর প্রকাশক মিতিয়া ওসমান। তিনি বলেন, যেহেতু আজ ছুটির দিন ছিল। বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। সামনে এই বিক্রির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে টানা ১০ মেলাতে এসেও কোনো বই কিনেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মেলা ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়াতে প্রতিদিনই আসা হয়। তাই কোনো বই কেনা হয়ে হয়নি, তবে মেলাতে কী কী নতুন বই আসছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়, সেই সঙ্গে অনেকটা উলটে-পালটে দেখা হয়। আর কয়দিন যাক, যেসব বই পছন্দ করে রেখেছি সেসব বই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে একুশে বইমেলা ২০২৪-এর ১০ম দিন। মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। মেলার অন্যান্য দিনের মতো এই ১০ম দিনেও ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন।
এদিন সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১৭৫জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বিচারক হিসেবে ছিলেন শিল্পী ইয়াকুব আলী খান, চন্দনা মজুমদার এবং সুমন মজুমদার।

এদিকে বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি সুচিত্রা মিত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইম রানা। প্রাবন্ধিক বলেন, সুচিত্রা মিত্র মূলত রবীন্দ্র-প্রতিভার আলোয় বিচ্ছুরিত এক উজ্জ্বল বর্ণশোভা। তার গায়নশৈলীর মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত মনন ও সৃজনের অনুপম সৌকর্যে চিত্রিত ও বিকশিত হয়েছে। সুচিত্রা মিত্রের উচ্চারণ-ভঙ্গি ও গীত-ভঙ্গি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তার সংগীত পরিবেশনার উচ্চারণ এবং বোধের শুদ্ধতা প্রায় প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছিল। লোকজীবনের মধ্যেও সদর্পে অভিজাতের শিল্পকে বরণ করে নেবার পক্ষে ছিলেন সুচিত্রা, তবে তা অবশ্যই পরিমিত মাত্রায়। দৃঢ়তাই ছিল তার ব্যক্তি-চরিত্র ও শিল্প-চরিত্রের বড় পরিচয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আহমেদ শাকিল হাসমী এবং অণিমা রায়। আলোচকবৃন্দ বলেন, সুচিত্রা মিত্র কেবল রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীই ছিলেন না, গণসংগীত আন্দোলনেরও একজন অগ্রবর্তী যোদ্ধা ছিলেন। তার পারিবারিক নিবিড় আবহে সংগীতচর্চার প্রচলন ছিল। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতেও তিনি গানের চর্চা, বিকাশ ও পরিবেশনা সমানভাবে চালিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথের গান তাকে শক্তি জুগিয়েছে। সমগ্র জীবনকেই তিনি পরিমিতি-বোধের মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন। তার সৃষ্টিকর্ম ও সংগীত তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মফিদুল হক বলেন, আমরা যদি বাংলা গানের সঙ্গে বাংলার সমাজ ও মানবমুক্তির আকুতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে যাই, তাহলে প্রাসঙ্গিকভাবেই সুচিত্রা মিত্রের কথা উঠে আসে। সংগীত ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই এই মহীয়সী শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার সাংস্কৃতিক-মানস ও অকুতোভয় আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
‘এদিকে লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও অনুবাদক জিল্লুর রহমান, কথাসাহিত্যিক পলাশ মজুমদার, শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ এবং প্রাবন্ধিক মোতাহার হোসেন মাহবুব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি দিলারা হাফিজ, চঞ্চল আশরাফ এবং রনজু রাইম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী অনিমেষ কর, কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, মিজানুর রহমান সজল এবং মুস্তাক আহমেদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন ফকির আবুল হাশেম।
এছাড়াও ছিল মিতা মোস্তফার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্র এবং মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন আরশিনগর বাউল সংঘের পরিবেশনা।