ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

দৃষ্টি জয়ীদের মাঝে বইয়ের আলো ছড়াতে গ্রন্থমেলায় ব্রেইল স্টল

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২০, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
দৃষ্টি জয়ীদের মাঝে বইয়ের আলো ছড়াতে গ্রন্থমেলায় ব্রেইল স্টল
ছবি: গ্রন্থমেলায় ব্রেইল স্টল

জন্মগত কিংবা জন্মের পর বিভিন্ন কারণে দৃষ্টি হারান, দৃষ্টি হারালেও সেই প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে দৃষ্টি জয়ের গল্প লিখেন। চারপাশকে নিজের দৃষ্টিতে নিজের মতো করে একটি জগত তৈরি করেন। একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় কোন অংশ পিছিয়ে নেই একজন দৃষ্টিজয়ী। বইমেলায় এসব দৃষ্টি জয়ীদের মাঝে বইয়ের আলো বিলয়ে দিতে এগিয়ে এসেছে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা।

জানা যায়, এবারের মেলায় স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর ১৯টি নতুন বই এসেছে। এদিয়ে তাদের সর্বমোট ব্রেইল বইয়ের সংখ্যা ১৩১টি।

স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার স্টলে কথা হয় রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মোহিনী আক্তার। তিনি বলেন, আমি প্রতি বছরই বইমেলাতে আসি। আমার ভালো লাগে। স্পর্শ আমাদের জন্য এই সুযোগটা করে দিয়েছে, তাদেরকে ধন্যবাদ। স্পর্শ যদি আমাদের জন্য ব্রেইল বই প্রকাশ না করতো তাহলে আমরা সাহিত্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারতাম না। শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হতো। সে জন্য স্পর্শের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

Advertisement

স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নাজিয়া জাবীন বলেন, শিশুদের নিয়ে লেখা আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল বইমেলায়। তখন বইটি দৃষ্টিজয়ী শিশুরা হাতে নিয়ে পড়তে পারেনি। এ ব্যাপারটি আমার কাছে অনেক খারাপ লেগেছিল। অন্যান্য বাচ্চারা পড়তে পারবে কিন্তু এই বাচ্চারা পড়তে পারবে না, বইয়ের মধ্যে এরকম পার্থক্য কেন থাকবে? এজন্য ২০০৯ সালে আমার লেখা একটি ব্রেইল বই প্রকাশ করি। ২০১০ সালে আবার আরেকটি ব্রেইল বই প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালে এসে আমার মনে হল যে, ওরা শুধু আমার বই কেন পড়বে? ওরা সারা পৃথিবীর বই পড়বে। ওদের জন্য সারা পৃথিবীর বইয়ের দুয়ার খুলে দিতে হবে। ওরা পড়তে চায়। ওদের জানার আগ্রহ আছে। ওরা আপনার আমার মতো করে গরগর করে বই পড়তে পারে। বই পড়া ও জ্ঞান অর্জনের অধিকার তো সকলেরই সমান। সেই হিসেবে তাহলে ওদের কেন অধিকার আমরা দিব না? এ চিন্তাকে মাথায় রেখেই আমরা বাংলা একাডেমিতে যুক্ত হলাম। যাতে মানুষ এ ব্যাপারে জানে। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে আমরা প্রতি বছরই মেলায় অংশগ্রহণ করি।

উল্লেখ্য, ব্রেইল পদ্ধতি কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লিখবার একটি পদ্ধতি। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা এই উন্নীত বা উত্তল বিন্দুগুলোর ওপর আঙ্গুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশা অনুযায়ী কোনটি কোন্‌ অক্ষর তা’ অনুধাবন করতে সক্ষম হয় এবং লেখার অর্থ বুঝতে পারে। ছয়টি বিন্দুর কোনোটিকে উন্নত করে আর কোনোটিকে উন্নত না-করে ৬৩টি নকশা তৈরী করা যায়। এক-একটি নকশা দিয়ে এক-একটি অক্ষর, সংখ্যা বা যতিচিহ্ন বোঝানো হয়। ৬টি বিন্দু বাম ও ডান দুটি উল্লম্ব স্তম্ভে সজ্জিত থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!