ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

বইমেলায় পেন্সিলের আঁচড়ে অনুভূতির ছবি

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বইমেলায় পেন্সিলের আঁচড়ে অনুভূতির ছবি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অমর একুশে বইমেলার পেন্সিলের আঁচড়ে ছবি আঁকছেন চিত্রশিল্পীরা। কাগজের মাপ অনুযায়ী এক একটা সাদাকালো এবং রঙিন পোর্ট্রেট শিল্পীরা আঁকছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলায় ১৫ জনের মতো এমন চিত্রশিল্পী এসেছেন। প্রতিটি ছোট আকারের পেইন্টিংয়ের জন্য ৬০০ টাকা, মাঝারি আকারের পেইন্টিংয়ের জন্য ৮০০ টাকা এবং বড় আকারের পেইন্টিংয়ের জন্য ১০০০ টাকা নিচ্ছেন তারা।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৪ এর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে টিএসসি গেইট দিয়ে প্রবেশপথে দেখা মিলে এসব চিত্রকরের। কেউ ছবি আঁকছেন, কেউবা একে নিচ্ছে, কেউবা দাঁড়িয়ে দেখে ফিরে চলে যাচ্ছেন।

কথা হয়, চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ নিয়াজের সঙ্গে। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পেইন্টিংয়ের বদলে সামান্য পারিশ্রমিক নিই। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে চিত্রটি কত বড় হবে তার ওপর। ৬০০ থেকে ১০০ টাকার মতো এসব পেইন্টিং হয়ে থাকে।

Advertisement

মেলায় ১৫ জনের মতো এমন চিত্রশিল্পী এসেছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১৭ বছর ধরে তরুণ কান্তি সরকার চিত্রশিল্পী হয়ে কাজ করছেন। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, যখন আমি একজন মানুষের ছবি আঁকি, তখন যে মানুষটিকে কাগজে এঁকে তুলে ধরি ভীষণ আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করেন যা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে।

আরেক শিল্পী বিশুর সঙ্গে বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা তার নেশা। এখানে মানুষের ছবি আঁকতে ভালোলাগা কাজ করে। মানুষ অনেকেই শিল্পীকে তার প্রাপ্য সম্মান দেন না। তবে, অনেকেই আবার কদর করতে জানেন। নামমাত্র মূল্যে ছবি এঁকে দিচ্ছেন তারা। অনেকেই খুশি হয়ে বেশি টাকাও দেন। আবার অনেকেই অনুরোধ করলে কম টাকা রাখেন নিজ থেকেই।

এদিকে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বইমেলায় এসেছিলেন এম এ ফারুক। ছবি আঁকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা শুধুই একটা শখ। সবসময় গ্রুপ ছবি তোলা হয় না। এই ছবিটা একটা ফ্রেমের মতো হবে। বাচ্চারা বড় হলে এটাকে স্মৃতি হিসেবে দেখবে। তাছাড়া ডিজিটাল ছবি এবং আঁকা ছবির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। পেইন্টিংয়ে মানুষের কাজের আবেগ থাকে যা ডিজিটাল ছবিতে নেই।

মানুষটিকে কাগজে এঁকে তুলে ধরি ভীষণ আনন্দের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বনানি থেকে আসা মনিরুল ইসলাম তার কন্যার ছবি এঁকে নিয়েছেন। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ছবি তো ক্যামেরাতে তোলাই হয়। কিন্তু ডিভাইসে তোলা ছবি আর আঁকা ছবিতে অনেক পার্থক্য। বাসায় স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য ছবিটি এঁকে নেয়া। তাছাড়া এটা মেয়ের জীবনেও স্মৃতি হয়ে থাকবে। 

প্রসঙ্গত, এবারের মেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৭০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!