মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্টল দিয়েছে অন্যপ্রকাশ। এখান থেকে বেরিয়ে তরুণ এবং বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখকদের বই। এর পাশাপাশি দেশের প্রথিতযশা মানুষের বইপত্রও বেরিয়েছে এখান থেকে। সব চেয়ে এই স্টলে বিক্রি হয় হুমায়ুন আহমেদের বই। এর পাশাপাশি সাদাত হোসেন, মৌরি মরিয়মের বই বিক্রিও বেশ তুঙ্গে।
অন্যবারের মেলাগুলোতে বিশেষত হুমায়ুন আহমেদকে প্রাধান্য দিয়ে স্টল নির্মাণ করা হতো। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার যুক্ত হয়েছে রিকশা ও রিকশাচিত্র। এবার এই স্টলটিতে পাঠকের পাশাপাশি দর্শনার্থীও ভিড়ও অনেক। ছবি তোলার লোকের সংখ্যা পাঠকদের তুলনায় নেহাত কম নয়।
.png)

অন্যপ্রকাশ প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মী শাফায়েত হোসেন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের অধিকাংশ বই অন্যপ্রকাশ থেকেই বের হয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের চাহিদা থাকবে। অন্যপ্রকাশ মানেই হুমায়ূন আহমেদ। তবে, সাদাত হোসাইনের বইও ভালো চলছে।
অন্যপ্রকাশের পরিচালক সিরাজুল কবির চৌধুরী কমল বলেন, আমরা হুমায়ুন আহমেদকে প্রাধান্য সব মেলাতেই দিয়ে থাকি কেননা তার বিরুদ্ধে কারো কোনো অভিযোগ নেই। এর পাশাপাশি আমরা অন্যান্য লেখক কেউ আমাদের স্টলের ছবিতে স্থান দেই। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার আমরা রিকশা ও রিকশাচিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছি, কেননা এটি যান্ত্রিক জীবনে একটি নিত্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এটি দেখতে যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি এর তুলনায় এটি নির্মাণে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে আমরা আমাদের স্টাইলটিকে আরো বেশি সাজসজ্জা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তারপরও নিয়মনীতি মেনে যতটুকু করতে পেরেছি এ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এদিকে বইমেলার স্টলে অভিনব রিকশা ও রিকশাচিত্র প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, বেশ সুন্দর ও লেগেছে স্টলটি। পাঠক-দর্শনার্থীতে সবারই চলতি পথে বেশ নজর কাড়ছে।
প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘ঢাকার রিকশা’ ও ‘রিকশাচিত্র’। আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার কাসানে বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ক কনভেনশনের চলমান ১৮তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিষদের সভায় এটি স্বীকৃতি দেওয়া হয়।