ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

বইমেলার স্টল যেন বইয়ের নয়, বাহারি দেশজ বাঁশের!

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বইমেলার স্টল যেন বইয়ের নয়, বাহারি দেশজ বাঁশের!
ছবি: গ্রন্থমেলায় দেশজ বাঁশের স্টল

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জুড়ে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাহারি বাঁশ দিয়ে তৈরি স্টল দেখলে চোখ কপালে উঠবে যে কোনো দর্শনার্থীর। আস্ত বাঁশ থেকে শুরু করে, বাঁশের মুড়া থেকে ছোট-বড় অসংখ্য বাঁশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। দূর থেকে যেকেউই মনে করবেন এ যেন বাঁশ প্রদর্শনের স্টল! কিন্তু কাছে গিয়ে পরখ করলে মনে হবে বাঁশ নয় বইয়ের স্টলই। বাঁশ দিয়ে অভিনব পন্থায় তৈরি করেছেন এই স্টল। এমন অভিমন স্টল দিয়েছে ‘বিদ্যানন্দ’। বাঁশের তৈরি পুরো স্টল জুড়ে স্টলের নীচে ব্যানারে লিখা ‘নিন্দুকেরা যে বাশ দিয়েছে সেটি বিক্রির ব্যবস্থা করেছে বিদ্যানন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল মাস খানেক আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়ে অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী এই প্রতিষ্ঠানটি। সেইসময় নানান কটুক্তির স্বীকার হয় এই প্রতিষ্ঠান। যদিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে এসেছে ওই প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, এবারের বইমেলায় সবমিলিয়ে ১৪০টি বই এনেছে বিদ্যানন্দ। এছাড়া নতুন বই এসেছে ১৪টি।  স্টলের দায়িত্বরত হাবিবুর রহমান সম্রাট ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কিছুদিন আগে বেশ কিছু মানুষ আমাদের নিয়ে ট্রল করে সমালোচনা করেছিল। সেগুলো আমারা সাদরে গ্রহণ করেছি। সেগুলো যে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাঁশ হিসেবে সাজিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চেয়েছি তাদের প্রত্যেকটি মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলো নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। সেই ভাবনা থেকেই এভাবে স্টল সাজানো হয়েছে।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, এবারের বইমেলা নতুন বই এসেছে ১৪টি। সবমিলিয়ে বই আছে ১৪০টি। আমাদের সাঁওতালি ভাষায় রূপকথা, ম্রো ভাষায় রূপকথা ১, ম্রো ভাষায় রূপকথা ২, মারমা ভাষায় রূপকথা, ইয়াংঙান ম্রোর ম্রো রূপকথা, চাকমা ভাষার রূপকথা ; এসব গ্রন্থগুলো এবারের বইমেলায় বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। বাকি দিনগুলোতে ভালো সাড়া পাবো তেমনটিই প্রত্যাশা করছি।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকশনা প্রতিষ্ঠান।

ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!