ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে যা-যা সরানো হয়েছে, তার তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কারের পর নতুন করে বেশ কিছু চিত্র সামগ্রীসহ ইতিহাসের দুর্লভ দলিল, চিত্র নতুন করে স্থান পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংস্কারের পর বেশ কিছু স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার। এবার অপসারণ করা সেইসব স্মৃতি সামগ্রীর তালিকা জনসমক্ষে আনার দাবি তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ভাস্কর্য চত্বরে অনুষ্ঠিত ‘ইতিহাস বিকৃতির নির্লজ্জ চক্রান্তের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন’ থেকে এ দাবি জানায় ছাত্র ফেডারেশন।
.png)
এতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিবুর রহমান রনির সভাপতিত্বে তাতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক আহমেদ মাসুম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম ঝুমা ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলার কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, ইতিহাসে যার যতটুকু কৃতিত্ব, তাকে সেই কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসের কালপর্বে শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানতম নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর তার নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা আছে। ইতিহাসে সেটাও লিপিবদ্ধ করা দরকার বলে আমরা মনে করি। কিন্তু কোনোভাবেই তার পরের কৃতকর্মের জন্য তাঁর পূর্বের অবদান মুছে ফেলা যাবে না।’
এছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে অপসারিত স্মৃতি সামগ্রীর তালিকা জনসমক্ষে আনার দাবিসহ পাঁচ দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- ডাকসু সংগ্রহশালায় অননুমোদিত পরিবর্তন ও ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ; ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে যা কিছু সরানো হয়েছে, তার তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং অপসারিত ঐতিহাসিক চিত্র ও স্মারক পুনর্বহাল; মহান বিজয় দিবসের আগে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর সংস্কার এবং ধ্বংসকৃত সকল ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ; ক্যাম্পাসজুড়ে থাকা সকল স্থাপনা সংস্কার ও সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ ; দেশজুড়ে সংগঠিত দঙ্গল, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ।’