ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা
ছবি সংগৃহীত

আর্থ অবজারভেশনভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস (CAS)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর চীনের সাংহাইয়ে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ড. মো. আব্দুল মালেকসহ বিভাগের শিক্ষকরা।

সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল ডেটা নেটওয়ার্ক ফর আর্থ অবজারভেশন (IDN4EO)-এর আওতায় বাংলাদেশে একটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স (ICoE-Bangladesh) প্রতিষ্ঠা করা।

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পক্ষে অধ্যাপক লি গুওছিং এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। উপাচার্য বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সাংহাইয়ে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেক।

ভিডিও বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; বরং দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উন্নত গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দেশের গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও একাডেমিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সমঝোতার আওতায় কৃষি পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়া প্রদান, আর্থ অবজারভেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত ডেটাসেট, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-উপযোগী ডেটাসেট যৌথভাবে উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, জনবল ও একাডেমিক বিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা আয়োজনের বিষয়টিও সমঝোতার আওতায় রয়েছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ICoE-Bangladesh প্রতিষ্ঠা, ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাংহাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লাওস এবং থাইল্যান্ডের মাহানাকর্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় দুটিও চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আর্থ অবজারভেশন ও গবেষণা সহযোগিতার একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক আর্থ অবজারভেশনভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতায় বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণাভিত্তিক অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

উউল্লেখ্য, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ নবায়ন করা যাবে।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ//এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!