নতুন মিডিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান ফারুক ওয়াসিফের
সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে হলে কাজের উৎকর্ষ, বয়ানের সততা ও পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) প্রশিক্ষণ কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য পিআইবি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
.png)
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই সাংবাদিকদের সাহসী, সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।
নতুন মিডিয়ার বিকাশে প্রচলিত গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন মাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সাংবাদিকদের কাজের উৎকর্ষ, বয়ানের সততা ও পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা তৈরি না হলে আবেগ দিয়ে এ পেশায় টিকে থাকা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন ভালো সাংবাদিক তৈরি করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পিআইবির মহাপরিচালক বলেন, সাংবাদিকের নিজের চেতনা, দায়বোধ ও পড়াশোনার মাধ্যমে পেশাগত সক্ষমতা তৈরি করতে হয়। ‘এটা প্রশিক্ষণ দিয়ে দেওয়া সম্ভব না। এটা আপনার ভেতরের যে চেতনা, আপনার যে দায়বোধ, সেটা কোনো প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যাবে না। এটা আপনার নিজের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে,’ বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করা কিংবা কারও স্বার্থে সাংবাদিকতা করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাহসী সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিজেদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
সাংবাদিকের দায়িত্ব বোঝাতে ভয়েজার মহাকাশযানের উদাহরণ দিয়ে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, পৃথিবী থেকে বহু বছর আগে পাঠানো ওই মহাকাশযান সৌরজগতের দূরপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং যতদিন এটি সচল থাকবে, ততদিন পৃথিবীতে তথ্য পাঠাবে। একজন সাংবাদিকের মধ্যেও এমন দায়বদ্ধতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যাতে পেশা ছেড়ে গেলেও তার ভেতরের সাংবাদিকসত্তা জাগ্রত থাকে।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল ঐতিহ্য রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিক সমিতিকে গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল চর্চা ধরে রাখার আহ্বান জানান।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ ও সংস্কৃতির কিছু অংশ নিজেদের মধ্যেও ঢুকে পড়তে পারে। তাই পুরোনো গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল চর্চা থেকে যা গ্রহণযোগ্য, তা ধরে রাখতে এবং যা পরিত্যাজ্য, তা বর্জন করতে হবে। এ দীক্ষা শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, পিআইবি ইতোমধ্যে সারাদেশের আট হাজারের বেশি সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা নিয়ে প্রায় ১৪-১৫টি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য আরও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সাংবাদিকদের চাহিদা অনুযায়ী ঢাকার বাইরেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের শেষ দিনে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা, তথ্য ও ছবি যাচাই, ভিডিও যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পিআইবির প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী জিলহাজ উদ্দিন নিপুনের পরিচালনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৩৫ জন ক্যাম্পাস প্রতিনিধি অংশ নেন।
জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা এবং জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদ বক্তব্য দেন।