ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তজুমদ্দিনের মেঘনায় মাছ ধরার ট্রলার ডুবি

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তজুমদ্দিনের মেঘনায় মাছ ধরার ট্রলার ডুবি
সংগৃহীত ছবি।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর উত্তাল স্রোতে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারে থাকা জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ডুবে যাওয়া ট্রলারটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে স্থানীয় জেলে ও মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলেন চাঁদপুর ইউনিয়নের হাজিকান্দি এলাকার রুহুল আমিন মাঝির ট্রলারটি।  হঠাৎ নদীর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে ডুবে যায়। মুহূর্তেই ট্রলারটি নদীর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা জেলে রুহুল আমিন মাঝি, মো. শাহিন, জসিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন নিজেদের জীবন রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় তারা নদীতে ভাসতে থাকলে সোনার চর এলাকায় অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা তাদেরকে উদ্ধার করেন।

ট্রলার ডুবির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করতে নদীতে খোঁজাখুঁজি করেন জেলেরা। তবে এ সংবাদ লেখা  পর্যন্ত ওই ট্রলারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। মেঘনায় তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, মেঘনায় স্রোত বাড়ার সময় মাছ ধরার ট্রলারগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের মাছ ধরার নৌযানগুলো প্রবল স্রোতের সঙ্গে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্রলার মালিক। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে নদীর গভীরে সেটি আরও দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রলারের মালিক রুহুল আমিন মাঝি বলেন, শনিবার মাছ ধরা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে ঘাটে আসার সময় হঠাৎ স্রোতে ট্রলারটি ডুবে যায়। কোনোভাবে আমরা তীরে উঠতে পারলেও ট্রলারটি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এতে করে আমাদের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছেন। ওই আবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবো। এরপর কোনো বরাদ্দ আসলে তা ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা/একেকে
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!