"ভারত একটি উগ্রবাদী ও বর্ণবাদি দেশে পরিণত হচ্ছে" চবি অধ্যাপক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ এশিয়ার হাইড্রোপলিটক্স: পানি বন্টন, ক্ষমতা ও ভূরাজনীতি নামক একটি প্রবন্ধকে কেন্দ্র করে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজ পারভেজ বলেন, ভারত রবীন্দ্রনাথের বা অন্যন্য লেখক যারা অসাম্প্রদায়িকতার গুণগান গাইতেন তাদের পরিবর্তে একটি উগ্রবাদী ও বর্ণবাদি দেশে পরিণত হচ্ছে।
বুধবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের কনফারেন্স হলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
.png)
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোচিপ শামসুদ্দিন ইলিয়াস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহাফুজ পারভেজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ফ্যাকাল্টি মুহাম্মদ তানবীরুল ইসলামের এই প্রবন্ধের মূলভাব হচ্ছে, " দক্ষিণ এশিয়ায় নদী ও তার পানি কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং তা আন্তঃরাষ্ট্রীয় রাজনীতি, ক্ষমতা ও ভূরাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সিঙ্কু, গঙ্গা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে ঘিরে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চুক্তি, দর-কষাকষি এবং একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে। লেখকের মতে, উজানের ক্ষমতার জোরে আধিপত্যবাদী রাজনীতি না চালিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য যৌথ সহযোগিতা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ ও পারস্পরিক আস্থার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। "
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজ পারভেজ পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের আধিপত্যবাদের বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, " ভারত রবীন্দ্রনাথের বা অন্যন্য লেখক যারা অসাম্প্রদায়িকতার গুণগান গাইতেন তাদের পরিবর্তে একটি উগ্রবাদী, বর্ণবাদি দেশে পরিণত হচ্ছে। তারা পানির মত একটি প্রাকৃতিক সম্পদকে হাইড্রোপলিটিক্স এর অংশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে যে উগ্রতা দেখা যাচ্ছে, টুপিসহ মানুষ দেখলে আক্রমণ, মসজিদ ভাঙা ইত্যাদির কারনে যদি বাংলাদেশের হিন্দুদেরও একই নির্যাতন করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন সমাধান কি হবে? আমার ত মনে হয় বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতে গিয়ে এই উগ্রতা বন্ধ করার চেষ্টা করা দরকার।"
দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার ব্যুরোচীপ শামসুদ্দিন ইলিয়াস নদীর পানি বন্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিরাচরিত ধারণা পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি নদীকে কেবল একটি "সম্পদ" বা ভাগাভাগির বস্তু হিসেবে না দেখে, একে একটি "জীবন্ত সত্তা" হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীর পানি প্রবাহ এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তাই কেবল কিউসেক মেপে বা চুক্তি করে পানি ভাগাভাগির দিন শেষ হয়ে এসেছে। এর পরিবর্তে অববাহিকাভিত্তিক সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতিবান্ধব শাসনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, তিনি তরুণদের বস্তুনিষ্ঠ ও পরিবর্তনের পক্ষে গবেষণামূলক কাজের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহ দেন। "
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করীম বলেন, "এ ধরনের সুন্দর আয়োজনের জন্য সবাইকে অভিনন্দন। সেমিনারে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও বক্তাদের আলোচনা সত্যি চমৎকার। রাজনীতি, পানি ও সমাজ নিয়ে আমার সহযোদ্ধারা যা বলেছেন, তাতে আমাদের মনের কথাই উঠে এসেছে।
ফারাক্কা বাঁধ, গঙ্গা ও তিস্তা নদীর পানি সমস্যা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে; মাওলানা ভাসানীর আন্দোলনের সময় থেকেই এটি আমাদের নাড়া দেয়। অথচ আমাদের দেশের আমলারা ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে গিয়ে পানি সম্পদ নিয়ে সেভাবে ভাবেন না। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক রেখেও নিজেদের অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। গঙ্গা-তিস্তার কারণে হওয়া ক্ষতি মোকাবিলায় বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মকে সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।"