মরণোত্তর ‘গুণীজন শিক্ষক সম্মাননা’ পেলেন জাবির সাবেক উপাচার্য মুস্তাহিদুর রহমান
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণীজন শিক্ষক সম্মাননা’ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষা ও গবেষণায় তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমানের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার মেয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসমিনা রহমান।
মরণোত্তর এ সম্মাননা পাওয়ায় অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম।
এক বার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, প্রজ্ঞাবান শিক্ষাবিদ ও দূরদর্শী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক। শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, জ্ঞানচর্চা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, মরণোত্তর এ সম্মাননা অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমানের দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখা শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশও এ সম্মাননা।
অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমানের কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য। তিনি অধ্যাপকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শিক্ষকতা ও প্রশাসনে দীর্ঘ অবদান
অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম উপাচার্য হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অনুষদের ডিন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমান। শিক্ষা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে তার অবদান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।