রাজধানীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, দাফন কুষ্টিয়ায়
রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থীকে কুষ্টিয়ার পিয়ার পুরের কমলাপুর ঈদগাহ ময়দানের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
শনিবার বাদ ফজর কমলাপুর ঈদগাহ ময়দান তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্কুলছাত্রীর বাবা।
এরইমধ্যে স্কুলছাত্রীর মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
.png)
ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি তানভীর ইফতেফার দিহান আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২ টার দিকে ভিকটিমকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কৌশলে বাসায় নিয়ে যায়। এরপর নিজের ফাঁকা বাসায় ভিকটিমকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় ভিকটিমের যৌনাঙ্গ ফেটে গিয়ে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়। ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই সে মারা যায়। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি সত্য বলে প্রতিয়মান হয়। এছাড়া আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
জবানবন্দি রেকর্ড করার পর ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে যৌন ও পায়ু পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কিনা, তার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।
কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, গত রাতে তানভীর ইফতেফার দিহানকে আসামি করে ছাত্রীর বাবা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।