ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]
গ্রেফতার হলেন আজহারুলের স্ত্রী আছমা

আজহারকে ৭ টুকরো করার বীভৎস বর্ণনা দিলেন মসজিদের ইমাম

দক্ষিণখানে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে লাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ২৬ মে ২০২১
আজহারকে ৭ টুকরো করার বীভৎস বর্ণনা দিলেন মসজিদের ইমাম
মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান, নিহত আজহারুল ও তার স্ত্রী আছমা - সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণখানে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে পোশাককর্মী আজহারুলের (৪০) অর্ধগলিত সাত টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্ত্রী আছমাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর আগে, মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান (৬৫) গ্রেফতার হন।

র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান হেসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আছমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিন বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব তাকে টাঙ্গাইল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

র‍্যারের কাছে আজহার হত্যার কথা স্বীকার করলেন ইমাম মাওলানা আবদুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

Advertisement

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের মরদেহ উদ্ধারের সময় আছমা তার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলে ছিলেন। আজহারুলকে হত্যার আগেই তিনি টাঙ্গাইলে চলে গিয়েছিলেন নাকি হত্যার পর তিনি টাঙ্গাইল চলে যান— এসব বিষয় র‌্যাব খতিয়ে দেখছে।

আজহারুল ও তার স্ত্রী আছমা - সংগৃহীত

এর আগে, মঙ্গলবার কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল মুত্তাকিম বলেন, গত ১৯ মে (বুধবার) এশার নামাজের পর থেকে হত্যা মিশন শুরু করেন ইমাম আব্দুর রহমান। গলায় ছুরি চালানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনি আজহারুলকে আরো কয়েকবার ছুরিকাঘাত করেন। এরপর মরদেহকে টুকরো টুকরো করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এশার নামাজের পর থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই হত্যা মিশন। লাশ ফেলে দেয়ার পর তিনি নিজের কক্ষের এবং সেপটিক ট্যাংকের আশপাশের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন। মসজিদ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আজহারুলের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কি নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল— জানতে চাইলে র‍্যাব-১-এর সিও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম রহমান বলেছেন, আজহার অভিযোগ করছিল যে তার স্ত্রীর দিকে কুনজর রয়েছে। কিন্তু আজহারের স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন ইমাম।

এই কক্ষে থাকতেন আজহারুল - সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, আজহারুল পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। নিকটস্থ সরদার বাড়ি জামে মসজিদে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ইমামতি কর আসছেন আব্দুর রহমান। আজহারের ছেলে আরিয়ান ওই মসজিদের মক্তবে পড়ালেখা করত। আজহার নিজেও আব্দুর রহমানের কাছে কোরআন শিক্ষা করতেন। সেই সুবাদের তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আজহারের বাসায় যাতায়াতও ছিল আব্দুর রহমানের।

এই সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয় আজহারের টুকরো করে লাশ - সংগৃহীত

র‌্যাব জানিয়েছে, ১৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজহারুল। র‌্যাব তার খোঁজ পেতে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে সোমবার মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ ও সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে র‍্যাব ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা জানতে পারে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামত - সংগৃহীত

আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে আব্দুর রহমানের কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোত্তাকিম বলেন, আমরা বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। এখনই কিছু বলতে পারছি না। তিনি জানান, পশু কোরবানির জন্য মসজিদে যে ছুরি রাখা হয়, সেই ছুরি দিয়েই আজহারকে হত্যা করেছেন আব্দুর রহমান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!