ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]
গুলশানে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু

অনাগত সন্তানের মুখও দেখতে পারলেন না আনোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৪২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
অনাগত সন্তানের মুখও দেখতে পারলেন না আনোয়ার
গুলশানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আনোয়ার হোসেন- ফাইল ফটো

রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ১০৪ নম্বর রোডের ১২তলা ভবনে আগুনের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে ৭তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। তাদের মধ্যে একজন আনোয়ার হোসেন। অধিকাংশ প্রাণে বেঁচে গেলেও মৃত্যু হয় আনোয়ারের।

নিহত আনোয়ার হোসেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার দিদারুল্লা গ্রামের মো. নূর ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ফাহিম সিনহার বাসায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।

আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম গ্রামেই থাকেন। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা আমেনা অগ্নিকাণ্ডে স্বামীর মৃত্যুর খবরে তিনি পাগলপ্রায়। অনাগত সন্তানের মুখটাও দেখে যেতে পারেননি আনোয়ার।

জানা গেছে, আগুন লাগলে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন আনোয়ার। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে লাশ শনাক্ত করেন আনোয়ারের ভাই জুলহাস। তিনি বলেন, আমার অন্তঃসত্ত্বা ভাবি স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে পাগলের মতো আচরণ করছেন। অনাগত সন্তানের মুখও দেখে যেতে পারলেন না আমার ভাই।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর রোডের বহুতল ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ক্রমান্বয়ে ইউনিট বাড়ানো হয়। সর্বশেষ রাত ১১টার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারে যোগ দেন পুলিশ, র‍্যাব ও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা। আগুন লাগা ভবনের কয়েকটি ফ্লোর থেকে নারী-শিশুসহ ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!